ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ সংসদ গঠিত হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে খালেদা জিয়ার শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সংসদে দাঁড়িয়ে আমার বারবার মনে পড়ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে। তিনি বলেন, এ সংসদ গঠনের পর সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন খালেদা জিয়া, কিন্তু তিনি আজ আমাদের মধ্যে নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছরের বেশি সময় আমি খালেদা জিয়ার স্নেহের ছায়ায় সহকর্মী, কর্মী, সংসদ সদস্য, কখনো মন্ত্রী আবার কখনো দলের নেতা হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তার ভাষায়, অনেক আন্দোলন, সংগ্রাম ও ত্যাগের কথা বলা হলেও খালেদা জিয়ার ত্যাগের সঙ্গে বিশ্বের কোনো ত্যাগের তুলনা করা যায় না।
তিনি বলেন, সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং তখনই তিনি ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবেও পরিচিতি পান। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তার নেতৃত্বেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। তার সময়েই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু হয় এবং নারী শিক্ষার অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
খালেদা জিয়া অপরাজিতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই রকম আর কোনো নজির নেই, উপমহাদেশে আছে কিনা জানি না। যতবার, যত আসনেই তিনি নির্বাচন করেছেন ততবারই তত আসনে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আপোশহীন দেশনেত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র যার হাত ধরে মুক্ত হয়েছ সেই ধারাবাহিকতায় ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নজিরবিহীন ত্যাগের নজির স্থাপন করে খালেদা জিয়া খেতাব পেয়েছেন দেশনেত্রী এবং গণতন্ত্রের মা। আজকে সেই গণতন্ত্রের মা আমাদের মধ্যে নেই। তিনি নেই কিন্তু তিনি আছেন। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের অন্তরে। বাংলাদেশের ইতিহাস যতদিন থাকবে ততদিন এদেশের মানুষ ততদিন স্মরণীয় রাখবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের রক্তের উপর, গণতান্ত্রিক সংগ্রামের উপর দাঁড়িয়ে, শহীদের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে যে ভিত্তি নির্মাণ হয়েছে তার ভিত্তিতে আমরা এই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন, গণতন্ত্রের যে সুদৃঢ় ভিত্তি রচনা করতে চেয়েছিলেন, সেই সুদৃঢ় ভিত্তিতে সাম্যের ভিত্তিতে, মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ আমাদের বিনির্মাণ করতে হবে।
টিটি/এমএএইচ/