বিএনপির সংসদ সদস্যদের অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে বক্তব্যে দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে বক্তব্যে দেওয়ার সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে চাই আমরা যারা সংসদে বসতে পেরেছি কেউই এই শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবো না। কারণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মানে শুধু জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নয়, এটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা। গণভোটের রায় অনুযায়ী আমরা যেমন সংসদ সদস্য, একইভাবে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য। আমাদের সরকারি দলের বন্ধুরা অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন বলেই আমরা বিশ্বাস করি। আমরা একইসঙ্গে গণতান্ত্রিক সংস্কারগুলো সাধন করতে চাই। ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে তাদের রায় জানিয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রে জনতার রায়ই সার্বভৌম, তার ওপর কোনো আইন বা বিধান চলতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আমার সেই ভাই-বোনদের যারা নিজের বুক বুলেটের সামনে উন্মুক্ত করে দিয়ে আমাদের আবারও স্বাধীন করে নিজেরা স্মৃতি হয়ে গিয়েছেন। আমরা তাদের শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। একই সঙ্গে আহত ও পঙ্গু জুলাই যোদ্ধা ভাই-বোনদের প্রতি আমার সবটুকু আবেগ, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাদের সুস্থতা কামনা করছি। তাদের অমূল্য জীবন, রক্ত আর অপরিসীম ত্যাগের ফলে আমরা আজ সংসদ সদস্য। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে অংশ নিয়েছিল ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক কর্মী, আলেম সমাজ, তরুণ সেনা অফিসার ও সৈনিকরা ও প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই ও বোনেরা।’
তিনি বলেন, অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে আমাদের নারী সমাজ। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে ও নির্যাতিত হয়েছে। আন্দোলনে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা ও স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ‘২৪ মানে কেবল ২৪ নয়, এর পেছনে রয়েছে বিশাল প্রেক্ষাপট। আমি স্মরণ করছি ৪৭-এর আজাদির লড়াই, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং সব জাতীয় শহীদকে। এসব ঐতিহাসিক জাতীয় সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আজকের বাংলাদেশ গৌরব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্মরণ করছি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদ, শাপলা হত্যাকাণ্ডের শহীদ, মোদি বিরোধী হত্যাকাণ্ডের শহীদ, ফ্যাসিস্ট আমলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করছি। ১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ছাত্র কিশোরদের অকুতোভয় সাহসকে স্মরণ করছি। স্মরণ করছি আমাদের ভাই শরীফ ওসমান হাদি, যিনি তার সাহসিকতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তিনি আর আমাদের সঙ্গে নেই। আমরা ওসমান হাদি ভাইকে স্মরণ করছি, শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ফেলানি খাতুনকে স্মরণ করছি যারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে বাংলাদেশকে আজকের এই জায়গায় নিয়ে এসেছে।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমরা বিচার চাই। জুলাই গণহত্যার বিচার চাই, শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাই, গুম খুনের বিচার চাই, বিগত সময়ে হওয়া লুটপাট এবং দুর্নীতির বিচার চাই। জুলাই মানেই নতুন বন্দোবস্ত, গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈষম্যহীন দেশ। জুলাই মানে আধিপত্যবাদ মুক্ত ফ্যাসিস্ট মুক্ত দেশ। জুলাই মানে মানবিক মর্যাদা ও দয়া ও দরদের বাংলাদেশ।
এমওএস/এমআইএইচএস