লাইফস্টাইল

সন্তানের অটিজম ধরা পড়লে অভিভাবক শুরুতে কী করবেন

সন্তানের অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার ধরা পড়লে অনেক মা-বাবাই প্রথমে ভয়, দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় ভুগে পড়েন। এখন কী করব? - এই প্রশ্নটিই তখন সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিক তথ্য, সময়মতো সহায়তা এবং পরিবারের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে অটিজম থাকা শিশুরাও ধীরে ধীরে অনেক দক্ষতা অর্জন করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ হলো - ধাপে ধাপে সঠিক পথে এগোনো। জেনে নিন প্রথম ৭টি ধাপ -

১. অটিজম সম্পর্কে জানুন

প্রথম ধাপ হলো অটিজম কী এবং এটি কীভাবে শিশুর আচরণ বা যোগাযোগে প্রভাব ফেলতে পারে তা বোঝা।

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বলছে, অটিজম একটি নিউরোডেভেলপমেন্টাল অবস্থা, যা সাধারণত যোগাযোগ, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং আচরণে ভিন্নতা তৈরি করে। যত বেশি জানবেন, সন্তানের প্রয়োজন বুঝতে তত সহজ হবে।

২. সন্তানের শক্তি ও চ্যালেঞ্জ বুঝুন

অটিজম স্পেকটার্মে থাকা প্রতিটি শিশুই আলাদা। কেউ ভাষা শেখায় ভালো, কেউ আবার চিত্র বা সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহী।

শিশুর আগ্রহ, দক্ষতা, সংবেদনশীলতা এবং কোন পরিস্থিতিতে সে অস্বস্তি বোধ করে - এসব খেয়াল করলে তার জন্য উপযুক্ত সহায়তা পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

৩. বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যুক্ত হোন

অটিজম ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসক, থেরাপিস্ট ও শিক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, বহুমুখী সহায়তা - যেমন স্পিচ থেরাপি, বিহেভিয়ারাল থেরাপি ও শিক্ষাগত সহায়তা - শিশুর বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৪. আর্লি ইন্টারভেনশন শুরু করুন

গবেষণা বলছে, যত দ্রুত সহায়তা শুরু হয় তত বেশি উপকার পাওয়া যায়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ উল্লেখ করেছে, জীবনের শুরুর বছরগুলোতে থেরাপি ও প্রশিক্ষণ শিশুর ভাষা, সামাজিক দক্ষতা এবং শেখার ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

৫. শিক্ষার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করুন

স্কুলে শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা পরিকল্পনা করা জরুরি। অনেক দেশে ইন্ডিভিজুয়ালাইজড এডুকেশন প্ল্যান বা বিশেষ সহায়তা পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শেখার পরিবেশ ও পদ্ধতি মানিয়ে নেওয়া হয়। এতে শিশুর শেখা সহজ হয় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

৬. স্থানীয় সহায়তা ও সেবা খুঁজে নিন

সরকারি বা বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা অটিজম থাকা শিশুদের জন্য থেরাপি, প্রশিক্ষণ ও পরিবার সহায়তা প্রদান করে। কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপ বা অভিভাবক নেটওয়ার্কও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে।

৭. পরিবারের সুস্থতাকেও গুরুত্ব দিন

অটিজম থাকা শিশুর যত্ন নিতে গিয়ে অনেক সময় পরিবার মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই অভিভাবকদেরও নিজের যত্ন নেওয়া জরুরি। বন্ধু, আত্মীয় বা সাপোর্ট গ্রুপের সাহায্য নেওয়া, মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া - এসবই মানসিক শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

মনে রাখবেন - এই যাত্রায় আপনি একা নন। সহায়তা আছে, পথও আছে।

সূত্র: সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, অটিজম স্পিকস, ইউনিসেফ

এএমপি/জেআইএম