জাতীয়

২০-৫০-১০০ টাকার নোটও জাল, পাইকারি বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে

বড় টাকার নোটের ক্ষেত্রে মানুষ এখন অনেক সচেতন। গত কয়েক বছর বড় উৎসবগুলোতে দেশে জাল টাকার নোট ছড়িয়ে পড়ে বহুগুণে। সেই থেকে মানুষ ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোটে সচেতন হয়েছে। এ কারণেই জাল নোটের কারবারিরা বদলেছে তাদের কার্যক্রমও। তারা এখন ২০, ৫০, ১০০ ও ২০০ টাকার নোটও জাল করছেন।

দেশে প্রধানত দুই ঈদ কেন্দ্র করে প্রতি বছর বেপরোয়া হয়ে ওঠে জাল নোটের কারবারিরা। পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের কেনাকাটায় জাল টাকা ছড়িয়ে দিতে এবারও বিভিন্নভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। অনলাইনে পেজ খুলে চালানো হচ্ছে প্রচারণা। দেওয়া হচ্ছে লোভনীয় অফার। দিচ্ছেন দেশের যে কোনো প্রান্তে হোম ডেলিভারির আশ্বাস। ঈদের মতো বড় উৎসব তাদের প্রধান টার্গেট।

সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়েছে এমন বেশকিছু চক্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে চক্রটি অভিনব সব প্রলোভন দিয়ে জাল নোট ছড়িয়ে দিতে মাঠে নেমেছে। কেউ কেউ আবার জাল নোটের বেশি প্রচারণার জন্য সেই পোস্টগুলো টাকা খরচ করে বুস্টও করছে।

ফেসবুকে প্রকাশ্যে চলছে জাল নোটের বেচাকেনা, ছবি: জাগো নিউজ

ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, ঈদ মৌসুমে ক্রেতার ভিড় বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি লেনদেন সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা কঠিন। এই সুযোগে অসাধু চক্র কৌশলে জাল নোট বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া এবার নতুন নোটগুলো এমনভাবে বানানো যে চেনারই উপায় নেই। এতে একদিকে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে ক্রেতারাও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরের মার্কেট, শপিংমল, ইফতারি বাজার এবং ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় লেনদেনের সময় জাল নোটের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটে জালিয়াতির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি বলে তারা জানান। ব্যস্ত সময়ে তড়িঘড়ি লেনদেনের কারণে অনেক সময় নোট যাচাই করা সম্ভব হয় না, পরে হিসাব মেলাতে গিয়ে জাল টাকা ধরা পড়ে।

ছোট ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু ৫০০ আর ১০০০ টাকার নোটই নয়, ৫০, ১০০, ২০০ টাকার নোটও তিনি জাল পেয়েছেন। নোটগুলো এমনভাবে বানানো যে, চেনার উপায় নেই।

আরও পড়ুনচট্টগ্রামে ২০ কোটি টাকার দেশি-বিদেশি জাল নোটসহ যুবক গ্রেফতারদোকানে জাল নোট ভাঙাতে গিয়ে আটক, মারধর করে পুলিশে সোপর্দঢাকায় র‍্যাবের অভিযানে জাল নোটসহ দুই তরুণ গ্রেফতারঢাকায় বিপুল পরিমাণ জাল নোটসহ গ্রেফতার ২

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে বিশেষ অফার দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইনে বিভিন্নভাবে জাল নোট বিক্রি করা হচ্ছে। অগ্রিম অর্ডার নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এজেন্টদের মাধ্যমে হোম ডেলিভারিও দিচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, সম্প্রতি এ চক্রের সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা জাল টাকা বিক্রির জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। এই চক্রগুলো জাল টাকা তৈরি করে নির্দিষ্ট কয়েকজন সদস্য দিয়ে আসল টাকার ভেতর জাল টাকা মিশিয়ে মানুষকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে।

ফেসবুকে প্রকাশ্যে চলছে জাল নোটের বেচাকেনা, ছবি: জাগো নিউজ

জাগো নিউজের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ‘জাল টাকা কারবার’ নামে একটি ফেসবুকে পেজে সম্প্রতি ৫০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকার জাল নোট বিক্রির পোস্ট দেওয়া হয়েছে। ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘পবিত্র ঈদ সামনে রেখে নিখুঁত ও মসৃণ প্রিন্টসহ সম্পূর্ণ এ গ্রেডের প্রোডাক্ট (জাল নোট) পাওয়া যাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কুরিয়ার ও হোম ডেলিভারির ব্যবস্থাও রয়েছে।’

লাখ টাকার জাল নোটের দাম ১০-২৫ হাজার টাকা

এসব মাধ্যম ঘেঁটে দেখা যায়, এক লাখ টাকার জাল নোট পেতে সব মিলিয়ে খরচ করতে হচ্ছে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। তবে সেই টাকা একবারে পরিশোধ করতে হচ্ছে না। প্রথম ধাপে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা অগ্রিম পাঠালেই দুদিনের মধ্যে কুরিয়ারের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে লাখ টাকার জাল নোট। সেগুলো হাতে পাওয়ার পর বাকি টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হচ্ছে। তবে বেশি পরিমাণে নোট অর্ডার করলে অগ্রিম টাকা কম দিলেও চলে। দুই লাখ টাকার জাল নোটের জন্য অগ্রিম পরিশোধ করতে হচ্ছে আট থেকে ১০ হাজার টাকা।

কক্সবাজারের রামুতে ভাড়া বাসায় এভাবেই জাল নোট তৈরি করছিলেন ইমরান, ছবি: সংগৃহীত

যেভাবে তৈরি হয় জাল নোট

নকল এ টাকা তৈরিতে ব্যবহার করা হয় টিস্যু পেপার, প্রিন্টার, ল্যাপটপ ও প্রিন্টারের কালি। পরে সফটওয়্যারের সাহায্যে মাউসে ক্লিক করলে মুহূর্তেই একের পর এক বেরিয়ে আসে ৫০০ কিংবা হাজার টাকার জাল নোট।

জাল টাকার চক্র বরাবরই ৫০০ কিংবা হাজার টাকার বড় নোট প্রিন্ট করে। কারণ এতে লাভ বেশি। কিন্তু এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে ৫০, ১০০ ও ২০০ টাকার নোটও জাল করে বিক্রির বিজ্ঞাপন দিচ্ছে একাধিক চক্র।

কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, বড় নোট সব ক্রেতা-বিক্রেতা দেখেশুনে যাচাই করে নেয়। কিন্তু ছোট নোট বেশি একটা যাচাই না করেই লেনদেন করেন। এতে ছোট জাল নোট খুব সহজেই বাজারে ছড়াচ্ছে।

ঢাকার তুরাগ থানা এলাকায় জালনোট ও সরঞ্জামসহ গ্রেফতার নাইমুল ইসলাম ইশান ও কেফায়েত উল্লাহ, ছবি: জাগো নিউজ

মেধা যখন অপরাধের হাতিয়ার

উচ্চ মাধ্যমিকে গোল্ডেন এ-প্লাস। চোখে বিদেশের নামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন। হাতে আইইএলটিএস প্রস্তুতির বই। বাইরে থেকে দেখলে নিখুঁত মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রতিচ্ছবি। কিন্তু সেই প্রতিচ্ছবির আড়ালেই গড়ে উঠেছিল জাল নোট তৈরির এক গোপন কারখানা। রাজধানীর তুরাগের ডলিপাড়ায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৬ লাখ টাকার জাল নোটসহ মাইলস্টোন কলেজ থেকে গোল্ডেন এ-প্লাস পাওয়া দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে র‍্যাব।

তদন্তকারীদের ভাষ্য, এটি কেবল জালনোট উদ্ধারের ঘটনা নয়। বরং প্রযুক্তি ও মেধার অপব্যবহারের এক উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত। যে মেধা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগার কথা ছিল, সেই মেধাই এখানে পরিণত হয়েছে অপরাধের হাতিয়ারে।

আরও পড়ুনজাল নোট ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির অভিযান ও নজরদারি জোরদারজাল নোট তৈরি করে বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারাজাল নোট নিয়ে গুজব, বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তাশেরপুরে জাল নোট নিয়ে হুলুস্থুল

আটক হওয়া প্রধান অভিযুক্ত নাইমুল ইসলাম ইশান জিজ্ঞাসাবাদে জানান, কোনো পেশাদার জালিয়াত চক্র নয়, তার গুরু ছিল ইন্টারনেট। ইউটিউব, গুগল সার্চ এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেই তিনি জাল নোট তৈরির নানা কৌশল শিখে নেন।

র‌্যাবের অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও বিভিন্ন ডিজিটাল সফটওয়্যার ব্যবহার করে সাধারণ কাগজেই প্রায় নিখুঁতভাবে নোটের অবয়ব তৈরি করছিলেন ইশান। উদ্ধার হওয়া নোটগুলো এতটাই সূক্ষ্মভাবে তৈরি যে খালি চোখে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল-নকল পার্থক্য করা প্রায় অসম্ভব।

র‌্যাব-৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক সনদ বড়ুয়া জাগো নিউজকে বলেন, অভিযানে ৫ হাজার ৫টি পাঁচশ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়, যার মোট মূল্য প্রায় ২৫ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি একটি ল্যাপটপ, প্রিন্টার, লেজার প্রিন্টিং ডাইস ও কয়েকটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

ঈদের বাজার টার্গেটে ছাপা হচ্ছিল নোট

গত ৬ মার্চ কক্সবাজারের রামুতে একটি ভাড়া বাসায় গোপনে ১ হাজার ও ৫০০ টাকার জাল নোট তৈরি করা হচ্ছিল। কয়েক দিনে তৈরি করা হয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার জাল নোট। ঈদের বাজারে এসব নোট ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল বলে জানায় পুলিশ। তবে এর আগেই অভিযান চালিয়ে জাল নোট তৈরির কারিগরকে গ্রেফতার করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মছিউর রহমান জানান, রামুর আমতলিয়াপাড়ার বাসিন্দা বাবুল বড়ুয়ার ভাড়া বাসায় জাল নোট তৈরি করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় একটি কক্ষ থেকে ১ হাজার ও ৫০০ টাকার প্রায় পাঁচ লাখ টাকার জাল নোট এবং জাল নোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ সময় ইমরান নামের একজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ও র‍্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রমজান ও ঈদ সামনে রেখে প্রতি বছর টেকনাফ, উখিয়া, রামু, চকরিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় জাল নোট ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক চক্র কমিশনের ভিত্তিতে এসব জাল নোট বাজারে ছড়িয়ে দেয়। এ কাজে নারী-পুরুষসহ শতাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

ফেসবুকে প্রকাশ্যে চলছে জাল নোটের বেচাকেনা, ছবি: জাগো নিউজ

ঢাকায় অর্ধশতাধিক জাল টাকার ডিলার

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, বিগত বছরগুলোতে রাজধানীর কদমতলী, ডেমরার বিভিন্ন মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকার কারখানার সন্ধান মেলে। এছাড়া লালবাগ, রামপুরা, মোহাম্মদপুর, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় জাল নোটের কারখানায় অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে অর্ধশতাধিক গ্রুপ। এর বাইরে আছে আরও অর্ধশতাধিক জাল টাকার ডিলার। প্রত্যেক ডিলারের সঙ্গে কমপক্ষে পাঁচ-ছয়জন বাজারজাতকারী আছেন। এসব কারখানায় ভারতীয় রুপিসহ বিভিন্ন দেশের জাল মুদ্রা তৈরি হচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ছে দেশ-বিদেশে।

ডলার খরচ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন

ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চটকদার সব বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে জাল নোট। শুধু অর্ডার করলেই দেশের যে কোনো প্রান্তে হোম ডেলিভারির সুবিধাও রয়েছে। ৫০, ২০০, ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোট বেশি নকল বা জাল করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘জাল টাকার কারবার’, ‘জাল টাকা বিক্রি হয়’, ‘আসল জাল টাকা বিক্রি করা হয়’, ‘জাল টাকা বিক্রি বাংলাদেশ ডট কম’, ‘ডিলার জাল টাকার’ এমন নানা নামে পেজ রয়েছে ফেসবুকে। এছাড়া টেলিগ্রামে ‘জাল টাকা’, ‘জাল টাকার লেনদেন’ ও ‘জাল টাকা সেল গ্রুপ’ নামে বিভিন্ন গ্রুপের সন্ধান মিলেছে।

আরও পড়ুনঅনলাইনে লাখ টাকার জাল নোট ২০ হাজারে বিক্রি২০ টাকার নোটও জাল, মিরপুরে প্রিন্টারসহ যুবক গ্রেফতাররাজধানীতে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার ২খুলনায় ১৫ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার, আটক ২

তিন ভাগে কাজ করেন জাল নোটের কারবারিরা

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, রাজধানীসহ সারাদেশে অর্ধশতাধিক গ্রুপ জাল টাকা তৈরি ও বিপণনে জড়িত। প্রতিটি উৎসবের আগে জাল নোট তৈরির চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। জাল টাকা তৈরি ও বিপণনের কাজে জড়িত চক্রের সদস্যরা তিন ভাগে বিভক্ত। একটি গ্রুপ অর্ডার অনুযায়ী জাল নোট তৈরি করে, অপর গ্রুপ টাকার বান্ডিল পৌঁছে দেয়, আরেক গ্রুপ এসব টাকা বাজারে ছড়িয়ে দেয়।

ফেসবুকে প্রকাশ্যে চলছে জাল নোটের বেচাকেনা, ছবি: জাগো নিউজ

জামিনে বেরিয়ে আবারও জাল নোটের কারবার

কয়েক বছর আগে রাজধানীর পল্লবীতে অভিযান চালিয়ে জাল নোট তৈরি চক্রের মূলহোতা ছগির হোসেনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এসময় এক কোটি ২০ লাখ টাকা সমমানের জাল নোট উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার ছগির হোসেন ১৯৮৭ সালে বরগুনা থেকে ঢাকায় আসেন। এসময় ইদ্রিস নামের এক জাল টাকার কারবারির সঙ্গে পরিচয় হয় তার। সেখান থেকেই জাল নোট তৈরিতে তার হাতেখড়ি।

ছগির প্রথমে জাল নোট বিক্রি করতেন। পরে রপ্ত করেন নোট তৈরি। ২০১৭ সালে জাল নোটসহ ইদ্রিস ও ছগির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। বছরখানেক জেল খেটে বেরিয়ে এসে পুনরায় ২০১৮ সাল থেকে শুরু করেন একই কাজ। কারাগারে গেলেও বেরিয়ে তিনি একই কাজে জড়িয়ে পড়েন। ২০২২ সালে আবারও গ্রেফতার হন ছগির।

আরও পড়ুন৫০০ টাকার জালনোট কেনেন ২০০ টাকায়, চালান স্থানীয় দোকান ও এনজিওতেরেমিট্যান্স বেড়েছে, জাল নোট-হুন্ডি রোধে সতর্কতাকম পুঁজিতে ধনী হতে ইউটিউব দেখে জাল টাকা তৈরি করতো তারাবান্দরবানে ১১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা জাল নোট উদ্ধার

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, যে কোনো ধরনের উৎসব শুরুর আগে সক্রিয় হয়ে ওঠেন জাল টাকার কারবারিরা। এ চক্রের সদস্যদের প্রায়ই গ্রেফতার করা হয়। তারপরও তারা জামিনে বেরিয়ে ফের একই অপকর্মে লিপ্ত হয়। এবারও ঈদ ঘিরে চক্রের সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে। তবে পুলিশ তাদের শনাক্ত করছে। অনলাইনেও ডিবির সাইবার ইউনিট নজরদারি করছে।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, বিভিন্ন উৎসব টার্গেট করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি জাল টাকার নোটের কারবার করে। র‍্যাব রোজার আগে থেকেই এসব কারবারির বিরুদ্ধে নজরদারি শুরু করে। এরই মধ্যে অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হয়েছে এমন ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নজরদারিও চলছে। র‌্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক অনলাইনে নজরদারি করছে। অনলাইনে জাল নোট বিক্রি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে র‌্যাব।

টিটি/এমএমএআর