ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি কারখানায় ইফতারের ‘বিরিয়ানি’ খেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অর্ধশতাধিক শ্রমিক। তাদের মধ্যে ১৯ জন গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইফতারের সময় উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের চেচুয়ার মোড় এলাকায় অবস্থিত গ্লোবাল সুজ লিমিটেড নামের জুতা তৈরির কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, কারখানাটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক কাজ করেন। রমজানে প্রতিদিনই শ্রমিকদের জন্য কারখানার পক্ষ থেকে ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়। বৃহস্পতিবার ইফতারের জন্য উপজেলার সিডস্টোর বাজারের খান হোটেল থেকে বিরিয়ানি সরবরাহ করা হয়। ইফতার করার ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শ্রমিক হঠাৎ বমি করতে শুরু করেন এবং একে একে অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
কারখানার সুইং সেকশনে কর্মরত শ্রমিক ফাহাদ মিয়া বলেন, ইফতারিতে কারখানায় সরবরাহ করা খাবার খাওয়ার পরপরই অনেক শ্রমিকের বমি, পেটব্যথা ও মাথা ঘোরার উপসর্গ দেখা দেয়। পরে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সুইং সেকশনের ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করে থাকে। বৃহস্পতিবার ইফতারে বিরিয়ানি দেওয়া হয়। বিরিয়ানি খাওয়ার পর প্রায় ৫০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে।
ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসান বলেন, অসুস্থ হয়ে কয়েকজন শ্রমিক হাসপাতালে আসেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম জাগোনিউজকে বলেন, রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ১৯ জন রোগী এই হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ নারী। তাদের হাসপাতালের ১৩ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান জাগোনিউজকে বলেন, দূষিত বা নষ্ট খাবার খাওয়ার ফলে সৃষ্ট ফুড পয়জনিংয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে কয়েক ঘণ্টা বা আরও বেশি সময় অতিবাহিত না হলে রোগীরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যায় কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে না। যারা অসুস্থ অবস্থায় এসেছে, তাদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/কেএএ