ময়মনসিংহের বাজারগুলোতে রমজানকে টার্গেট করে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন জাতের ফল। প্রতি কেজি ফলে ৫০-২৫০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, ফলের বাজার মনিটরিং দুর্বল থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা রমজানের সুযোগে বাড়তি দাম নিচ্ছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে বিভাগীয় শহরের পাটগুদাম ব্রিজ মোড়, স্টেশন রোড, গাঙ্গিনারপাড়, চরপাড়া ও নতুন বাজার এলাকা ঘুরে ফলের ঊধ্বগতির এই তথ্য জানা গেছে।
ক্রেতারা জানিয়েছেন, রমজানকে টার্গেট করে বাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফল। রমজানে দেশি ফলগুলোতে দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। আর বিদেশি ফলগুলোর দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এতে ক্রেতাদের সাধ্যের বাইরে এখন অনেক ফল।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আপেল প্রকারভেদে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, নাশপাতি ৪০০ টাকা, কমলা ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা, মালটা ৩৫০ টাকা, মালভেরী ৬৫০ টাকা, সবুজ আঙুর ৪০০ ও কালো আঙুরের কেজি ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামের ফলের মধ্যে পেঁপে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, বরই ১০০ টাকা ১২০ টাকা, পেয়ারা ১০০ থেকে ১২০ টাকা ও বেল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তরমুজ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
খেজুরের দাম এখনো কমেনি। আগের মতোই কেজিতে ৫০ থেকে ৪৮০ টাকা বাড়তি দামে বেশিরভাগ জাতের খেজুর বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে আমরার ভিআইপি ১২০০ টাকা, আজওয়া ভিআইপি ১৩০০ টাকা, কালমি মরিয়ম ৮০০ টাকা, জাবরি ৫২০ টাকা, ডাবাস ক্রাউন ১ নম্বর ৬০০ টাকা, লুলু ৫৬০ টাকা ও মেডজুল ভিআইপি ১৪০০ টাকা, মরিয়ম ভিআইপি ১২০০, সুক্কারি ভিআইপি ৭৫০, মাবরুম মরিয়ম ৮০০, মাসরুক ৪৫০, ব্ল্যাক মরিয়ম ৯০০, মেডজুল এক নম্বর ১৬০০, জাবিল (ছড়া) ৬৫০, ডাবাস ৪৪০, হাগাল ৫২০, বিজারারি ৬২০, বিজা ১৮০, জিহাদি ৩০০, কিমি মরিয়ম ভিআইপি ১১০০, সুফরি ৬৫০, আজওয়া ছোট ৯৫০, রেড মরিয়ম ৮৫০, জিহাদি ২৬০ এবং বিজা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আপেল ও মালটা কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম নামের একজন ক্রেতা বলেন, রমজানের শুরু থেকেই সবধরনের ফলের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে থাকেন বিক্রেতারা। এখন রমজান মাস শেষের দিকে। তবুও দাম কমানো হচ্ছে না। ফলের এমন বাড়তি দামে পছন্দের ফল কিনতে খেতে পারছেন না নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক ক্রেতা। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালালে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেন।
শহরের চরপাড়া এলাকায় ফল ব্যবসায়ী হান্নান মিয়া বলেন, পাইকাররা ফলের দাম বাড়িয়েছেন। তারা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বাড়তি দামে বিক্রি করায় ক্রেতা পর্যায়েও দাম বেড়েছে। অন্যান্য খুচরা বিক্রেতারা যে দামে বিক্রি করছে, আমিও একই দামে ফল বিক্রি করছি।
তবে নতুন বাজার এলাকার আড়তদার আর্শেদুল আলম বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় ফলের সরবরাহ কম। এতে বিভিন্ন ফলের দাম আকাশচুম্বী। তবে ফলের ক্রেতাদের অভাব নেই।
বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ইমতিয়াজ আহমেদ তানসিন বলেন, পবিত্র রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে পুষ্টিকর ফলের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। ফুটপাত কিংবা দোকানগুলোতেও দেখা মিলে দেশি- বিদেশি হরেক রকমের ফলের পসরা। রমজানকে পুঁজি করে ফলের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে আমদানি করা হয় প্রায় ৩৮ রকমের ফল। বছরে এর চাহিদা ৬ লক্ষ টন থাকলেও শুধু রমজানেই এর চাহিদা থাকে ৯০ হাজার টনের বেশি।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক রিনা বেগম বলেন, নিয়মিত ফলের বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ফল ক্রয়-বিক্রয় রশিদে দামের অসংগতি পেলেই নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা। তবুও অসাধু বিক্রেতারা সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেন। তাই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএন/এএসএম