ক্যাম্পাস

ইউজিসিতে শেষ ধাপে ঝুলে আছে ইবির নতুন দুই বিভাগের কার্যক্রম

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) শেষ ধাপের অনুমোদনের অপেক্ষায় আটকে আছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ধর্মতত্ত্ব অনুষদভুক্ত নতুন দুই বিভাগের কার্যক্রম। আস-সিরাহ আন-নববীয়্যাহ ও তুলনামূলক তাফসীর নামে বিভাগ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে অধ্যাদেশভুক্ত ও চ্যান্সেলরে অনুমোদিত রয়েছে। বিভাগ দুটি খুলতে নানা ধাপ শেষে ইউজিসিতে গিয়ে আটকে পড়ায় শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। নতুন বর্ষে ভর্তি শুরু আগেই দ্রুত বিভাগ দুটির অনুমোদনের দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও ইতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে ইউজিসিতে ফাইলটি ঝুলে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের ১৩১তম সভায় ও ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৭১তম সভার অনুমোদনক্রমে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ইসলামিক ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অনুষদের অধীনে নতুন তিনটি বিভাগ খোলার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন বিভাগ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, সিলেবাস প্রণয়ন, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদনসহ অধিকাংশ প্রাতিষ্ঠানিক ধাপ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইউজিসির বিশেষজ্ঞ দল সরেজমিনে পরিদর্শন করে ইতিবাচক মতামত দিলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের অভাবে পাঠদান শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে নতুন বিভাগগুলোর জন্য অফিস, শ্রেণিকক্ষ, সেমিনার লাইব্রেরি ও ল্যাবের জায়গা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া নির্মাণাধীন দশতলা ‘কবি গোলাম মোস্তফা অ্যাকাডেমিক ভবন’এর কাজ শেষ হলে অন্য বিভাগগুলো সেখানে স্থানান্তরের মাধ্যমে নতুন বিভাগগুলোর জন্য পর্যাপ্ত অ্যাকাডেমিক স্পেস নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের লক্ষ্য ও আদর্শ অনুযায়ী এই ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এখানে নতুন বিভাগ ও অনুষদ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল, যা দীর্ঘ সময় ধরে বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে দুটি বিভাগ চালুর জন্য অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট ও ইউজিসিতে প্রস্তাবসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ইউজিসির তিন সদস্যের কমিটিও সরেজমিনে পরিদর্শন করে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছে। কিন্তু সব শর্ত পূরণ হওয়ার পরও ফাইলটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে অযথা বিলম্ব হচ্ছে।

ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সেকেন্দার আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইউজিসি থেকে অনুমোদনের চিঠি এখনো না আসায় বিভাগ দুটির সার্কুলার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই বছর নতুন ওই দুটি বিভাগের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না। ইউজিসি থেকে গড়িমসি করা হচ্ছে। অনেকদিন অপেক্ষার পর ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ইউজিসির চিঠি এলে পরবর্তীতে দুটি বিভাগ যুক্ত করে পুনরায় সার্কুলার দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. তানজিমুদ্দিন খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নতুন বিভাগগুলোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ যাবতীয় প্রক্রিয়া ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি এখন অনুমোদনের জন্য ইউজিসির প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। পরিদর্শক দলের রিপোর্ট আমাদের কাছে এসেছে, যেখানে বিভাগ চালুর বিষয়ে ইতিবাচক দিকগুলো উঠে এসেছে। তবে সেখানে কিছু বিষয় আছে যা পরিদর্শক টিমের এখতিয়ারের বাইরে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কারিগরি ও প্রশাসনিক কিছু বিষয় রয়েছে যা আমাদের টার্মস অব রেফারেন্সের বাইরে। সে বিষয়গুলো আমরা পুনরায় যাচাই-বাছাই করছি। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো নতুন বিভাগ খোলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সিলেবাস পাস করানোসহ কিছু প্রক্রিয়াগত ধাপ অনুসরণ করতে হয়। আমরা সেই প্রক্রিয়াটিই শেষ করার চেষ্টা করছি। সবকিছু সঠিকভাবে সম্পন্ন হলেই বিভাগগুলো চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।’

ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ এবং মানবিক ও বাণিজ্য অনুষদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।

এমএন/এএসএম