দেশজুড়ে

কারাগারে অসুস্থ আওয়ামী লীগ নেতা, হাসপাতালে মৃত্যু

ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহনুর আলম শান্ত (৫৫) নামের এক কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। তিনি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ৯টায় তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বগুড়া কারাগারের জেলার নুরুল মুবিন।

শাহনুর আলম সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবলাইল গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলী প্রামাণিকের ছেলে।

কারা কর্তৃপক্ষ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া সদরের একটি বিস্ফোরক মামলায় গত ৪ জানুয়ারি শাহনুর আলমকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১৭ জানুয়ারি তাকে বগুড়া থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) স্থানান্তর করা হয়েছিল।

কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার তায়েবা জানান, অসুস্থ হয়ে পড়ায় শাহনুর আলমকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এর আগেও দুবার অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অমিত হাসান বলেন, সুরাইয়া জেরিন নামের এক বিএনপি নেত্রীকে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক মামলায় শাহনুর আলমকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে সুচিকিৎসার অভাব ও অবহেলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রজব আলী দাবি করেন, শাহনুর আলম শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। ২০১৮ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি ডান পা হারান এবং তার হাতেও রড ঢোকানো ছিল। কৃত্রিম পায়ের সাহায্যে তিনি চলাফেরা করতেন। হৃদরোগে আক্রান্ত থাকা সত্ত্বেও কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রজব আলী আরও অভিযোগ করেন, চাঁদা দিতে না পারায় বগুড়া শহরের নাড়ুলী এলাকা থেকে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে শাহনুরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় ও পরে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

নিহতের ছোট ভাই ফারুক মিয়া বলেন, শান্তর একমাত্র মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। সে এতিম হয়ে গেলো।

তিনি জানান, কারাগার থেকে মরদেহ গ্রহণ করে তার গ্রামের বাড়িতে রোববার সকাল ৯টায় দাফন করা হয়েছে।

এমএন/জেআইএম