দেশজুড়ে

পঞ্চগড়ে পক্ষপাতের অভিযোগে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় ঘেরাও

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে (আটোয়ারী, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর) নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছে ১১ দলীয় জোট।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ১০টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান ও বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেন নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি তুলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নওশাদ জমিরের পক্ষে বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হলেও সেগুলো অপসারণে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর শাপলা কলি প্রতীকের ব্যানার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে বলে দাবি তাদের।

পঞ্চগড়-১ আসনের শাপলা কলির প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্ট ও পঞ্চগড় শহর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নাসির উদ্দীন সরকার বলেন, আমরা ৫ দফা দাবি জানিয়েছি। দাবিগুলো হলো- গত ফ্যাসিস্ট আমলে ৩টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এসব নির্বাচনে যেসব প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের বাদ দিতে হবে। দলীয় পদধারী কোনো ব্যক্তি প্রিসাইডিং বা পোলিং অফিসার হতে পারবেন না। যারা ইতিপূর্বে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার ছিলেন না, বিশেষ করে মাদরাসার শিক্ষকরা-যারা এতদিন বঞ্চিত ছিলেন-তাদের এ কাজে নিয়োগ দিতে হবে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কোনো এক রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাকে অতিলম্বে অপসারণ করতে হবে এবং পঞ্চগড়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামানকে পদত্যাগ করে চলে যেতে হবে।

পঞ্চগড়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানান, তাদের যেসব ফেস্টুন নিয়ে আপত্তি আমরা সেগুলোর ছবি তুলে নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছিলাম। তারা এটিকে ব্যানার বলে অবহিত করেছেন। পরে আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তারা তা মানছে না। এছাড়া শহরের বিদ্যুৎ পোল, গাছ সরকারি স্থাপনায় স্থাপন করা ব্যানার ফেস্টুন আমরা অপসারণ করেছি। পক্ষপাতমূলক আচরণ নয়, আমরা নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যা সিদ্ধান্ত দিবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।

সফিকুল আলম/এমএন