আইন-আদালত

জুরাইনে হত্যা: প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

রাজধানীর জুরাইন এলাকায় যুবক সোহেল হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও অপর দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. খোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার প্রধান আসামি রবিন ওরফে ট্যারা রবিনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া মামলার অপর দুই আসামি রিপন ও মাসুদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের প্রত্যেককে দুই বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ের সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রবিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে রিপন ও মাসুদ পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার অপর দুই আসামি ‘পিয়ারীর পোলা রবিন’ নামে পরিচিত রবিন-২ ও তানভীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেন। তারা মামলার শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক হত্যাকাণ্ডটিকে পরিকল্পিত ও নৃশংস উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের অপরাধ সমাজ ও পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। আদালতের মতে, এমন অপরাধে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাই ন্যায়বিচারের দাবি।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত সোহেল কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ এলাকায় একটি দর্জির দোকানে কাজ করতেন। পারিবারিক বিরোধ ও সামাজিক ঝুঁকির কারণে তাকে কিছুদিন নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছিল। ২০১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সেখান থেকে বের হওয়ার পর পুনরায় তাকে বিভিন্ন অপকর্মে জড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা প্রত্যাখ্যান করায় হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর জুরাইনের ঋষিপাড়ায় একটি একতলা ভবনের ছাদে নিয়ে সোহেলকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় সোহেলের মা সুফিয়া বেগম কদমতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয় এবং দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। 

এমডিএএ/এমএন