শিক্ষা

৭৫ শতাংশ এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি এনসিপির

ক্ষমতায় এলে আগামী ৫ বছরে দেশের এমপিওভুক্ত ৭৫ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে (স্কুল ও কলেজ) জাতীয়করণের আওতায় নিয়ে আসবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। পাশাপাশি এমপিওভুক্ত বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উন্নত এমপিও কাঠামো, পূর্ণ বেতন-ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের হাতে গড়ে ওঠা দলটি।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে এ তথ্য তুলে ধরেছে এনসিপি। তারা মোট ৩৬ দফার ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এর ১৭ ও ১৮ ধারায় শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

বিস্তারিত ইশতেহারে শিক্ষা নিয়ে বলা হয়েছে, শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করে বিদ্যমান সব ধরনের শিক্ষার মাধ্যম ও পদ্ধতিগুলোর একটি যৌক্তিক সমন্বয় করা হবে। পাঁচ বছরের মধ্যে ৭৫ শতাংশ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ধাপে ধাপে ও মানদণ্ডভিত্তিক জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।

অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রত্যন্ত ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করা হবে এবং বাকিগুলোর জন্য উন্নত এমপিও কাঠামো, পূর্ণ বেতন-ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

আরও পড়ুনতারুণ্য ও মর্যাদার ৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা এনসিপির বিএসসি-ডিপ্লোমা দ্বন্দ্ব, সমাধানে সিদ্ধান্ত নেবে না অন্তর্বর্তী সরকার 

ইশতেহারে শিক্ষকতাকে সম্মানজনক ও আকর্ষণীয় পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে নানান ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, শিক্ষকদের মর্যাদা ও পেশাগত সম্মান পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পৃথক ও প্রতিযোগিতামূলক বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

বেতন কাঠামো প্রতিবছর মুদ্রাস্ফীতি অনুসারে সমন্বয় করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও বেতন নির্ধারণে একক, স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক মানদণ্ড প্রবর্তন করা হবে।

এছাড়া প্রতিবছর একটি সমন্বিত পরীক্ষার মাধ্যমে সব সরকারি শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করে শিক্ষকতাকে একটি সম্মানজনক ও আকর্ষণীয় পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

অন্যদিকে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের সংযোগ স্থাপন করতে স্নাতক পর্যায়ে ছয় মাসের পূর্ণকালীন ইন্টার্নশিপ/ থিসিস রিসার্চ বাধ্যতামূলক করা হবে বলেও এনসিপির ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

এএএইচ/কেএসআর