খেলাধুলা

সরে দাঁড়াচ্ছেন শ্রীলঙ্কার কোচ জয়াসুরিয়া

শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সনাৎ জয়াসুরিয়া। সুপার এইটে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ রানের পরাজয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় শ্রীলঙ্কার। এরপর তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকে তিনি কিছু না জানালেও তিনি বলেন, কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকার সিদ্ধান্ত তিনি নিয়ে রেখেছিলেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৫ রানে পরাজয়ের পর এই সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে জয়াসুরিয়া বলেন, ‘আমি মনে করেছি দায়িত্বটা অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়ার সময় হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে ইংল্যান্ড সিরিজ চলাকালেই বলেছিলাম, আমি দীর্ঘদিন এই পদে থাকার আশা করছি না। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম বিশ্বকাপে ভালো ফল করে ইতিবাচকভাবে বিদায় নিতে পারব। কিন্তু সেটা আমার প্রত্যাশামতো হলো না, এ নিয়ে আমি দুঃখিত।’

তবে তিনি এখনও পদত্যাগ করছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি। আগামী ১৩ মার্চ থেকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সাদা বলের সিরিজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে (যদিও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সিরিজটি অনিশ্চয়তার মুখে)। বোর্ড চাইলে ওই সিরিজ পর্যন্ত তাকে দায়িত্বে রাখতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমার চুক্তির মেয়াদ জুন পর্যন্ত। আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডকে কিছু জানাইনি। তারা জানেও না যে আমি এমন ঘোষণা দিতে যাচ্ছি। আমাকে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। যদি তারা অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারে, তাহলে অবশ্যই সেটাই করা উচিত।’

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরপরই জয়াসুরিয়া প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন। শুরুর কয়েক মাসেই আসে কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য। সে বছরের আগস্টেই ২৭ বছর পর শ্রীলঙ্কা ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয় করে। এরপর সেপ্টেম্বরে দ্য ওভালে একটি টেস্ট জয় এবং ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হারানোর কৃতিত্বও অর্জন করে। জয়াসুরিয়া বলেন, ‘গত দেড় বছরে আমি দলকে অনেকটা এগিয়ে নিতে পেরেছি। ওয়ানডেতে আমরা ছিলাম অষ্টম বা নবম স্থানে, এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও খেলতে পারিনি। এখন আমরা চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছি। টেস্ট দলকে ছয়ে এবং টি-টোয়েন্টি দলকে ছয় বা সাত নম্বরে নিয়ে এসেছি (বর্তমানে অষ্টম স্থানে)।’

তবে এই সাফল্যের পেছনে যে তিনি একা কাজ করেছেন এমনটা নয়। কৃতিত্ব দিয়েছেন নিজের সহকর্মীদেরুও, ‘আমি একা এটা করিনি। আমার সহকারী কোচিং স্টাফ অসাধারণ সহযোগিতা করেছে। শুরু থেকেই তাদের সহায়তা চেয়েছিলাম, কারণ কোচ হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা বেশি ছিল না। তবে খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমি দায়িত্ব সামলাতে পেরেছি।’

তবে তার দায়িত্বের শেষ বছরে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ব্যর্থতাই বেশি চোখে পড়েছে। ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচ হেরে বিদায় নেওয়া ছিল সবচেয়ে বড় ধাক্কা। এছাড়া ২০২৫ এশিয়া কাপে মাঝারি মানের পারফরম্যান্স এবং গত বছর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজেও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয় শ্রীলঙ্কা।

এর আগে জয়াসুরিয়া দুই দফায় প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

আইএন