রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ডাকাত সন্দেহে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে একজন নিহত এবং আরও সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) ভোরে উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের চকপলাশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. শাহীন (৪৫) নামের একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা।
এদিকে এই ঘটনায় আরও ৭ জন আহত হয়েছেন। এরা হলেন, রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানার চকপলাশী গ্রামের মো. লালুর ছেলে শামীম (৩৫), ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার জিরানী গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে মো. শফিকুল (৪৫), রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার ইমাদপুর গ্রামের মো. জহুরুল ইসলামের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৪০), ঢাকা জেলার ধামরাই থানার নানজেগুড়ি গ্রামের মাহির ছেলে খরজাহান (৩৫), টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর থানার বামালের চর গ্রামের মো. সাত্তার শেখের ছেলে সেলিম শেখ (৩০), টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর থানার কুটিবয়রা গ্রামের মামুন (৪২), জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার সোনিয়াপাড়া গ্রামের মোস্তফার ছেলে রুপচান (৩০)। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সহকারী পুলিশ সুপার খালেদ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে একটি মিনি ট্রাকযোগে ৮ জন ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে এলাকায় প্রবেশ করলে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের গণপিটুনি দেয় এবং মিনি ট্রাকটিতে অগ্নিসংযোগ করে।
খবর পেয়ে পুঠিয়া থানা পুলিশ এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় আরও সাতজন গুরুতর আহত হন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সহকারী পুলিশ সুপার খালেদ হোসেন বলেন, রাতে তারা ডাকাতির প্রস্তুতিকালে স্থানীয়দের গণপিটুনির শিকার হন। তবে তাদের প্রিভিয়াস রেকর্ড চেক করা হয়নি। কিন্তু তাদের কাছে থেকে ডাকাতির সমস্ত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সাখাওয়াত হোসেন/এফএ/এমএস