দেশজুড়ে

শ্রমিক হত্যা মামলায় আইভীর বিরুদ্ধে গ্রেফতার আবেদন মঞ্জুর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সিদ্ধিরগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী আরও একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতারের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুন আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে গ্রেফতার আবেদন মঞ্জুর করেন।

কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ (পিপিএম) এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ইন্টিরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মন্ডল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার আবেদন দেখানো হয়েছিল। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত দুই পক্ষের শুনানি শেষে গ্রেফতার আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, আইভীকে সবাই চেনেন। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলে এজাহারকারী আইভীর নাম দিতেন। আইভী এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। আমরা আদালতে আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। আদালত শুনানি শেষে গ্রেফতার আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর পর আমরা আইনিভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীকে শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করা হয়। ২০২৪ সালের ৩০ জুন কৃষক ওয়াজেদ আলী বাদী হয়ে ইন্টিরিয়র মিস্ত্রী সেলিম মন্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে মামলাটি করেছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই চিটাগাং রোড এলাকায় ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের নিচতলায় অগ্নিসংযোগ ঘটে। এতে ব্যাংকের ইন্টিরিয়র ডেকোরেশনের কাজে নিয়োজিত সেলিম মন্ডলসহ তিন শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা যায়।

তার আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা, পারভেজ হত্যা মামলায় এবং সদর মডেল থানায় করা হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলায় জামিন পান।

গত বছরের ৯ মে ভোর রাতে শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই সাথে গত বছরের নভেম্বর মাসে হাইকোর্ট ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পাঁচ মামলায় জামিন দিয়েছিলেন। এরপর আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। পরে ১৮ নভেম্বর তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা ও সদর থানায় দায়ের করা আরও পাঁচ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এমএন/এমএস