গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও এর ফলাফল বাতিল, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার অধ্যাদেশ ২০২৫) বাস্তবায়ন আদেশ ও এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের চিঠি এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা নিয়ে করা পৃথক দুটি রিটের আদেশ দেওয়া হতে পারে আজ (মঙ্গলবার)।
হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ সংক্রান্ত বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য এই দিন ধার্য রয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি নিয়ে আদেশের এই দিন ঠিক করেন। এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করীম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব। অপরপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিক ও মুহাম্মদ শিশির মনির।
পরে শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে প্রশ্ন তোলা আত্মাঘাতী পদক্ষেপ। এটা নির্বাচনসহ বিগত সরকারের সবকিছুকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এ অবস্থান থেকে সরে না আসলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই সনদ, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রশ্নবিদ্ধ হলে গণভোট, নির্বাচন ও নির্বাচিত সংসদও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এগুলো সংবিধানে না থাকলেও ঐকমত্যের ভিত্তিতে, বিশেষ অবস্থার ভিত্তিতে এগুলো এসেছে।
সংবিধানে তো অন্তবর্তী সরকার নেই, সরকার পালিয়ে যাওয়ার বিধানও নেই, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনও নেই। বিশেষ অবস্থাকে মোকাবিলা করতে গিয়ে আইনগতভাবে পরামর্শ করে একেকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের ফলশ্রুতিতে সংঘটিত ঘটনা নিয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, যোগ করেন তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জেরে ওই বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ও দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। একই বছরের ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই জাতীয় সনদ।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গণভোট হয়। সংস্কার সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য গণভোটের বিধান প্রণয়নে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি রিট করেন।
এছাড়া, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যের শপথের জন্য গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দেওয়া চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম ১৭ ফেব্রুয়ারি অপর রিটটি করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়, গণভোট প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘন হয়েছে। এসব কারণে গণভোটের ফলাফল যথাযথ ও বৈধ নয় বলে দাবি করা হয়। রিটকারীর দাবি, হাইকোর্ট যেন গণভোটের ফলাফল বাতিল করে দেন এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন।
রিটে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ প্রদান করতে এবং প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ও অনিয়মগুলো বিবেচনা করে ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা নিতে। রিটে আরও বলা হয়েছে যে, ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এফএইচ/একিউএফ