মতামত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ : তেলের দাম ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি

ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলের সংঘাত নিয়ে আমরা অনেকেই দারুণভাবে চিন্তিত, বিভক্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত। আমরা ইরানের একনায়কতন্ত্র, ধর্মীয় উগ্রবাদ, দীর্ঘদিনের কঠোর শাসন, নারীর প্রতি নিপীড়ন, মুরাল পুলিশিংয়ের বিরুদ্ধে। সবসময় চেয়েছি এর অবসান হোক।

জানুয়ারি মাসে ইরানে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক সংঘাত হয়েছে। সেখানে নিহতের সংখ্যা ৭ থেকে ৩৬ হাজার পর্যন্ত বলে মনে করা হচ্ছে। সেই আন্দোলনে আমরা ইরান সরকারের এই স্বৈরাচারী শাসনের অবসান চেয়েছিলাম।

কিন্তু স্বৈরাচারী ও উগ্র মৌলবাদী শাসনের অবসান চাইলেও, অন্য একটি সার্বভৌম দেশে সরাসরি হামলা চালিয়ে নেতৃত্ব শূন্য করে দেওয়ার পদ্ধতিটাও সমর্থন করতে পারছি না। সেইদেশের জনগণ যদি নিজেদের মতো করে স্বাধীন হতো, তাহলে তা সবচেয়ে যুক্তিগ্রাহ্য ও সুন্দর হতো। ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর এই মার্কিন আগ্রাসী আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে চরম অরাজকতা তৈরি হতে পারে।

ইরান যুদ্ধ থেকে আমেরিকা কী অর্জন করতে চায়, তা এখনো বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট নয়। তারা বলেছিল রেজিম চেঞ্জ। কিন্তু রেজিম চেঞ্জের জন্য এই ধ্বংস ও ইসরায়েল-মার্কিন হামলাকে সাধারণ ইরানি জনগণ মেনে নিতে পারেননি। কাজেই ইরানে ট্রাম্পের রেজিম চেঞ্জের ব্যাপারটা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিয়েই ট্রাম্প ইরানের সরকার, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে। একইসঙ্গে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছিলেন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ও নিজ দেশকে স্বাধীন করতে। যুদ্ধের আজ কয়েকদিন পার হলো, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কেউ বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে যায়নি। জনগণও তেমন একটা রাজপথে নামেনি। বরং সাধারণ মানুষ শোক প্রকাশ করছে খামেনির মৃত্যুতে। আসলে মানুষ কখনো বাইরের আক্রমণের ফলে নিজের সন্তান-স্বজনের মৃত্যু মেনে নিতে পারে না।

এদিকে যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এই আশঙ্কায় মার্কিন সরকার মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের নাগরিকদের সরে যেতে বলছে। অর্থাৎ যার যা ক্ষতি হোক মার্কিনিরা বাঁচলেই হবে। কিন্তু আমরা কী করবো, আমাদের অসংখ্য মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত। এই মানুষগুলো কীভাবে ফিরে আসবেন? সেখানে কীভাবে নিরাপদে থাকবেন? ফিরে এলে আর কি ফিরে যেতে পারবেন? এরকম অনেক ভয় আমাদের তাড়া করছে। একটা যুদ্ধ মানে অনেক শংকা, ভয়, মৃত্যু, ক্ষয়ক্ষতি। এই অবস্থায় আমরা কীভাবে ‘ইরানে রেজিম চেঞ্জে’র এই মার্কিন-ইসরায়েলের হামলার পক্ষে থাকতে পারি?

এই রেজিম চেঞ্জের জন্য ইরানে বড় ধরনের সংঘাত ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের সংখ্যা নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এই যুদ্ধে দক্ষিণ ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে নিহত হয়েছে প্রায় ১৬০ থেকে ১৮০ জন স্কুলছাত্রী। আহতের সংখ্যা কয়েক হাজার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার ফলে ইরানের অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়িসহ তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল এবং দক্ষিণ ইরানের বেশ কিছু স্কুল। এদিকে শুধু যে ইরানের ক্ষতি হচ্ছে তাতো নয়। ইরানের পাল্টা হামলায় প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনেও মানুষ নিহত হয়েছেন, আহতও হয়েছেন অনেকে। পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকলে ক্ষয়ক্ষতি ও নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ যুদ্ধের ক্ষতি দেখলে আতঙ্কিত হই, বিষণ্ন হই।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশটাও ঠিক এভাবেই খালি হয়ে গিয়েছিল। অন্য দেশের হামলায় এইভাবে নিজের শহর, নিজের গ্রাম ও দেশ ধ্বংস হতে দেখে চোখে পানি এসে যায়, বুকের মধ্যে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়। অহেতুক ক্ষমতা প্রদর্শনের নিমিত্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন হানাহানিতে মেতে ওঠে, তখন অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশের মানুষরা উদ্বাস্তু হয়ে পড়েন। তাদের আয়, ব্যয় ও বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়ে। পরিবার-পরিজন নিয়ে একটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে বাধ্য হন তারা। ভয়াবহ আতঙ্ক নিয়ে এই ছুটে চলা।

ফিলিস্তিন, সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞ আমরা আর দেখতে চাইনা। স্বৈরাচার হটাও, পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করো এই স্লোগান দিয়ে দেশগুলোকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে পরিণত করা হয়েছে। কত মানুষ যে মারা গেছে এর কোনো হিসাব নাই। কত শিশু যে আহত ও আশ্রয়হীন হয়েছে এর হিসাব এখন কেউ রাখছে না। ইরানও সেরকম একটি অন্তহীন যুদ্ধের ক্ষেত্রে পরিণত হয় কিনা, সেটা ভেবে ভয় হচ্ছে। এই যুদ্ধ মানুষ হত্যার পাশাপাশি ধ্বংস করেছে এই দেশগুলোর সভ্যতা ও ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ।

যুদ্ধ চলমান হলে বিশ্ব অর্থনীতি (বিশেষ করে তেলের দাম) কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেটা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক কাজ করছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ঘনিষ্ঠ মিত্র এই হামলাকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। অনেক দেশ ইরানের উদ্যত আচরণের নিন্দা জানালেও সরাসরি মার্কিন হামলার প্রশংসা করতে পারছে না। অনুমান করতে পারছি এই যুদ্ধের সাথে জড়িত একটি দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধ এবং অনেক ক্ষয়ক্ষতি।

ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসন, শোষণ মাত্রাছাড়া হয়ে উঠেছিল। যে-কোনো তুচ্ছ অপরাধে নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হার বেড়েছে, সাথে আছে অনার কিলিং ও সতীত্বের সার্টিফিকেট গ্রহণ। পরিবার ও সমাজ নারীকে অন্তরীণ করে রাখতো এবং শাস্তি দিতো। যেমনটা দিয়েছিল মাশা আমিনকে। মাশা যদি মারা না যেতেন, তাহলে হয়তো এভাবেই চলতো সবকিছু।

একটা প্রোগ্রামে ব্যাংকক গিয়ে দেখা হয়েছিল ইরানি কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট জাহরার সাথে। প্রথমদিন অনুষ্ঠান স্থলে ওকে দেখে আমি বেশ অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ওর পরনে ছিল স্কার্ট টপস, হাইহিল ও রং করা কার্লি চুল। ইরানি মেয়ে হিসেবে ভেবেছিলাম বোরকাধারী হবে। কিন্তু না, ও পুরোই বিপরীত ধরনের ছিল।

জাহরাকে জিজ্ঞাসা করলাম, সে ইরানের মেয়ে হয়েও এরকম পোশাক পরছে কীভাবে? জাহরা বলেছিল, এইধরনের পোশাক আমাদের পছন্দের পোশাক হলেও দেশে মোল্লাতন্ত্র আসার পর আমাদের উপরে বোরকা লেবাস চড়িয়ে দিয়েছে। তাই আমরা যারা বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাই, তারা প্লেনে উঠেই বোরকা খুলে ফেলি, ঘরেও পরি না। আবার যাওয়ার সময় প্লেন থেকে নামার আগে পরে ফেলি। বলো তো জোর করে কি বিধিনিষেধ পালন করানো যায় মানুষকে?

জাহরার কথা সত্যে প্রমাণিত হলো ২০২২ এ এসে। সেইসময় সরকার বিরোধী ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভে ইরানে প্রচুর মানুষ মারা গেছেন। বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠা নারীরা প্রতিবাদস্বরূপ তাদের হিজাব পুড়িয়ে ও চুল উড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

মাশা আমিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, দেশটিকে বহু বছরের মধ্যে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা বারবার চেষ্টা করেছেন সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাব ও আচরণকে রুখে দিতে।

অবশ্য ইরানে নারীদের ওপর এই হিজাব ঠিকমতো পরা না পরাটাই একমাত্র নিপীড়ন নয়। রেজা শাহ পাহলভীর বিদায়ের পর থেকেই শুরু হয়েছিল কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নিপীড়ন। মূলত ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানি সমাজে নারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রেজা শাহ তার শাসনামলে ইরানকে করে তুলেছিলেন একটি আধুনিক রাষ্ট্র। সেইসময় যে দুজন নারী মন্ত্রী হয়েছিলেন, তাদেরই একজন ছিলেন, নারী অধিকার নেত্রী, মাহনাজ আফকামি। তিনি নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে কয়েকটি যুগান্তকারী আইন পাস করেছিলেন। যেমন, তালাক দেয়ার ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর সমান অধিকার, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ ও কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি। পোশাকের ক্ষেত্রেও ছিল না কোনো বিধিনিষেধ।

ইরানি গল্প, উপন্যাস, সিনেমা, শিল্প সবকিছু ছিল উৎকর্ষের শীর্ষে। কিন্তু রেজা শাহ’র সরকারের পতন এবং খোমিনির বিপ্লব নারী সমাজের জন্য কালো যুগ নিয়ে আসে। সবধরনের আধুনিক পারিবারিক আইন বাতিল করা ও নারীকে গৃহে অন্তরীণ করার মাধ্যমে ইরানকে পিছিয়ে নেওয়া হয়েছিল হাজার বছর।

এছাড়া ইসলামি বিপ্লব নারীকে কোণঠাসা করা ছাড়া আর কোন ভাল ফল বয়ে আনতে পারেনি। ইরানের সোশ্যাল সিকিউরিটি অর্গানাইজেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে দেশটির অন্তত আড়াই কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করেন এবং ক্রমশ এই সংখ্যা বাড়ছে। ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ। এই যুদ্ধ আরো ভয়াবহ পরিণাম ডেকে আনবে।

ইরানে অব্যাহত মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার কারণে সাধারণ ইরানিরা তাদের বাড়িঘর ফেলে পালিয়ে যাচ্ছেন, কয়েকদিন আগে ঠিক এভাবেই পালিয়ে গেছেন সিরিয়া, ইরাক, আরাকান ও ইউক্রেনের মানুষ। ভালোবাসার স্মৃতি, ছবি, আসবাবপত্র, বইখাতা, গাছপালা সব ফেলে রেখে মোটামুটি এক বস্ত্রে অজানার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাওয়া। কোথায় যাচ্ছেন জানেন না, কোথায় থাকবেন, কীভাবে থাকবেন তাও জানেন না।

তারা জানেন না কবে ফিরবেন, জানেন না আদৌ ফিরতে পারবেন কিনা? আর ফিরে এসে নিজের বাসাটি এমন সাজানো গুছানো পাবেন কিনা? এভাবেই ঘরবাড়ি ও আশ্রয় হারিয়েছিল প্যালেস্টাইন, গাজা ও সিরিয়ার মানুষগুলো। বিশ্বের আরো অনেক দেশে মানুষ যুদ্ধের কারণে এভাবেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশটাও ঠিক এভাবেই খালি হয়ে গিয়েছিল। অন্য দেশের হামলায় এইভাবে নিজের শহর, নিজের গ্রাম ও দেশ ধ্বংস হতে দেখে চোখে পানি এসে যায়, বুকের মধ্যে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়। অহেতুক ক্ষমতা প্রদর্শনের নিমিত্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন হানাহানিতে মেতে ওঠে, তখন অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশের মানুষরা উদ্বাস্তু হয়ে পড়েন। তাদের আয়, ব্যয় ও বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়ে। পরিবার-পরিজন নিয়ে একটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে বাধ্য হন তারা। ভয়াবহ আতঙ্ক নিয়ে এই ছুটে চলা।

যুদ্ধবাজ নেতারা বুঝতেই চান না যে মানুষ কী হারায়, কাকে হারায়। শিশুরা কতটা বিপর্যস্ত হয়। গাজার শিশুরা আর কোনোদিন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে হয় না। মানুষ, গাছ, পাখি এক ফুৎকারেই ছাই হয়ে গেল।

গাজা, সিরিয়ার শিশুরা পথের ধারে এখনো উদ্বাস্তু হয়ে দিন কাটাচ্ছে। আহার, মাথাগোঁজার ঠাঁই, ওষুধ, সেবা, ভালবাসা, পরনের কাপড়, শিক্ষা কিচ্ছু নেই তাদের, অথচ একদিন সব ছিল। ২০২৪ হিসেব অনুযায়ী দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরে মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে সিরিয়ায় (এক কোটি ৩৮ লাখ)। এভাবেই ইউক্রেন, ইরাক, লিবিয়া, আফগানিস্তানের মতো ইতিহাস সমৃদ্ধ দেশগুলো সব হারিয়ে গেল। এই দেশগুলো মানচিত্রে থাকলেও, জীবনে নেই। এখানকার মানুষগুলোর পরিচয় হচ্ছে “উদ্বাস্তু”। রেজিম পরিবর্তনের কথা বলে কত মানুষকে যে তাদের ভিটেমাটি থেকে উৎখাত করা হচ্ছে, সে হিসাব কে করবে? খুব মায়া হয় এই মানুষগুলোর জন্য। সত্য এটাই যে যুদ্ধ ও রাজনীতির মারপ্যাঁচে পড়ে আমরা কতকিছু হারিয়ে ফেলেছি, ফেলবো।

৩ মার্চ, ২০২৬

লেখক : যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক।

এইচআর/এমএস