‘বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে যেসব দালাল চক্র রোগীদের হয়রানি করে বা রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে এমন দালালদের বিরুদ্ধে আমরা গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাদের তালিকা তৈরি করছি। যেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’
রোববার (৮ মার্চ) সকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) দালালবিরোধী অভিযান পরিচালনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র্যাব-২ এর উপ-অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি খালিদুল হক হাওলাদার।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার জন্য যেসব রোগী আসেন তারা দালাল চক্রের দ্বারা বিভিন্নভাবে হয়রানের শিকার হন। এই দালালদের দৌরাত্ম্য ও রোগীদের হয়রানির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে।
গত ৪ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি বিজ্ঞপ্তিতে দালাল নির্মূলে সাত দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর মধ্যে অন্যতম দফা রয়েছে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দালালের বিরুদ্ধে আইনগত অভিযান পরিচালনা করা। ফৌজদারি অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
তিনি বলেন, আমরা তিনটি হাসপাতালে আজ অভিযান পরিচালনা করে ২০ জন দালালকে আটক করেছি এবং বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব দালাল চক্র রোগীদের সেবা গ্রহণে হয়রানি করে এবং প্রতারণার আশ্রয় নেয় তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ নেওয়া হয়।
এছাড়া যদি কোনো দালাল এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর বা অবৈধভাবে কোনো ক্লিনিকে অপচিকিৎসার মাধ্যমে অঙ্গহানি বা চিকিৎসার নামে বিদেশে পাচার করে তাহলে ওই দালালের বিরুদ্ধে মানবপাচার মামলা এবং ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে যেসব দালাল চক্র রোগীদের হয়রানি করে বা রোগীদের সাথে প্রতারণা করে এমন দালালদের বিরুদ্ধে আমরা গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাদের তালিকা তৈরি করছি। যেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। যদি কোনো হাসপাতালের কর্মচারী ওয়ার্ড বয় বা অন্য কেউ জড়িত থাকেন সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। দালালদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলবে এবং আমরা আইনগত সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেব। দালালদের বিরুদ্ধে আমাদের পলিসি জিরো টলারেন্স।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তিনটি হাসপাতাল থেকে যে ২০ জন দালাল ধরেছি তারা এখানে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। রোগীদের হয়রানির মাধ্যমে তাদের চিকিৎসা গ্রহণে সহযোগিতা না করে তাদের অন্য হাসপাতালে, অন্য ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এটা ফৌজদারি অপরাধ। দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলবে।
কেআর/এমআরএম