লাইফস্টাইল

ঈদের আগাম প্রস্তুতি শুরু করুন এই ১০ কাজ দিয়ে

রোজার শেষভাগে সময় যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যায়। আজ ২০ রোজা, অর্থাৎ ঈদের আর সর্বোচ্চ ১০ দিন বাকি। অনেকেই এ সময় কর্মক্ষেত্র বা শহরের ব্যস্ততা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই ভুলে যাওয়া হয়।

তাই ঈদের ছুটির আগে কিছু প্রস্তুতি আগেভাগে শুরু করলে পুরো পরিকল্পনাই হয়ে উঠতে পারে অনেক সহজ ও স্বস্তির। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন কোন বিষয় এখনই গুছিয়ে নেওয়া ভালো।

১. যাত্রার টিকিট দ্রুত নিশ্চিত করুন

ঈদের আগে যাতায়াতের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা প্লেন - যে মাধ্যমেই যাত্রা করুন না কেন, এখনই টিকিট নিশ্চিত করে ফেলাই ভালো। শেষ মুহূর্তে টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে, আবার ভাড়া বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। ভালো সিটেরও অভাব থাকে। ফলে পরিবার নিয়ে যাত্রা করা নিরাপদ থাকেনা।

২. পোষা প্রাণীর জন্য ব্যবস্থা করুন

বাড়িতে যদি পোষা প্রাণী থাকে, তাহলে আগে থেকেই ভাবতে হবে তাকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন নাকি কারও কাছে রেখে যাবেন। যদি রেখে যেতে হয়, তবে পরিচিত কারও দায়িত্ব দেওয়া বা পেট কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা করা ভালো।

৩. ঈদের কেনাকাটা আগেই সেরে ফেলুন

শেষ সপ্তাহে বাজারে ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই নিজের পোশাক, পরিবারের সদস্যদের উপহার কিংবা প্রয়োজনীয় কেনাকাটা আগেই গুছিয়ে ফেললে চাপ কম থাকবে।

৪. কাপড়চোপড় ধুয়ে আলাদা করতে শুরু করুন

যে কয়দিনের জন্য ছুটিতে যাবেন, সেই অনুযায়ী কাপড়চোপড় ধুয়ে শুকিয়ে আলাদা করে রাখতে পারেন। এতে শেষ মুহূর্তে ব্যাগ গোছাতে তাড়াহুড়া করতে হবে না।

৫. গৃহকর্মীর ছুটি ও বোনাস ঠিক করুন

যদি বাসায় গৃহকর্মী থাকেন, তাহলে ঈদের বোনাস বা উপহার আগেই বুঝিয়ে দেওয়া ভালো। পাশাপাশি আপনি কবে ফিরবেন এবং সে কতদিন ছুটি নেবে - এসব বিষয়ও আগে থেকেই আলোচনা করে নেওয়া উচিত।

৬. রান্নাঘরের খাবার পরিকল্পনা করুন

ছুটি শুরুর দিন মাথায় রেখে রান্নার পরিকল্পনা করুন। যাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে অতিরিক্ত খাবার তৈরি না হয় এবং ফ্রিজে রেখে পরে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি না থাকে।

৭. গাছপালার যত্নের ব্যবস্থা করুন

বাড়িতে টবের গাছ থাকলে কয়েকদিন পানি না পেলে শুকিয়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকেই প্রতিবেশী বা পরিচিত কাউকে পানি দেওয়ার দায়িত্ব দিতে পারেন, অথবা স্বয়ংক্রিয় পানি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে পারেন।

৮. বাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

বাসা থেকে বের হওয়ার আগে গ্যাসের চুলা, সিলিন্ডার, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও দরজা-জানালা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন। প্রয়োজন হলে প্রধান সুইচ বন্ধ করে রাখা নিরাপদ।

৯. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ওষুধ গুছিয়ে নিন

জাতীয় পরিচয়পত্র, টিকিট, প্রয়োজনীয় ওষুধ কিংবা জরুরি নম্বরগুলো একটি আলাদা ব্যাগে রেখে দিন। এতে ভ্রমণের সময় ঝামেলা কম হবে।

১০. অফিসের কাজ গুছিয়ে ছুটি নিন

ছুটিতে যাওয়ার আগে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শেষ করে রাখা ভালো। প্রয়োজন হলে সহকর্মীদের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিন, যাতে ছুটির সময় মানসিক চাপ কম থাকে।

ঈদের আনন্দ মূলত পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্যেই থাকে। তাই আগেভাগে একটু পরিকল্পনা করে রাখলে শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ কমবে, আর যাত্রাও হবে অনেক বেশি স্বস্তির।

এএমপি/এএসএম