জাতীয়

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

সাড়ে ২১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সন্দেহভাজন লেনদেনের অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খানের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জানিয়েছেন সংস্থার উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম। 

ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য, ঘুষ, অর্থপাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে কামাল, লুৎফুল, তাদের ছেলে শাফি মোদাচ্ছের খান ও মেয়ে শাফিয়া তাসনিম খানের নামে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। একই দিনে কামালের এপিএস মনির হোসেনের বিরুদ্ধেও মামলা হয়।

২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর সাড়ে ২২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও প্রায় সাড়ে ৮৭ কোটি টাকার সন্দেহভাজন লেনদেনের অভিযোগে কামাল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছিল দুদক।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, মামলা তদন্তকালে আসামি লুৎফুলের নামে ২০ কোটি ৯ লাখ ২৫ হাজার ৬৯৭ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। এই সম্পদ অর্জনের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ পাওয়া যায় ৫ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ২২৭ টাকা। যা তার সম্পদের তুলনায় অনেক কম। অর্থাৎ আসামির নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায় ১৪ কোটি ৮৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪৭০ টাকা। 

আসামির বর্ণিত সম্পদ অর্জনের বৈধ কোনো উৎস নেই। এটা পরিষ্কার যে স্বামীর সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে লুৎফুল জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও দন্ডবিধির ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। 

অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামি লুৎফুলের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত ৬ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০ টাকার উৎস সন্দেহজনক এবং এ টাকা ঘুষ বা উৎকোচ হিসেবে তার স্বামী ও মামলার অপর আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে দেওয়া হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। যা হস্তান্তর, রূপান্তর ও লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ উৎস গোপন করার উদ্দেশ্যে অত্র হিসাবে নগদায়ন করা হয়েছে। আসামিরা মোট ২১ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদক অভিযোগ করছে।

আসামিদের মালিকানাধীন স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ফ্ল্যাট, জমি, দোকান ইত্যাদি ও অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ব্যবসার শেয়ার, ব্যাংক ব্যালেন্স, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, যাত্রী পরিবহনের বাস ইত্যাদি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।

এসএম/একিউএফ