নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদক কারবার পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন মাদক কারবারি থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে রূপগঞ্জ থানা ভবনে উপস্থিত হয়ে মুচলেকা দেওয়ার মাধ্যমে তারা এই অঙ্গীকার করেন। পরে পুলিশ তাদেরকে একটি করে জায়নামাজ ও টুপি উপহার দিয়ে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন-মিন্নত আলী ব্যাপারী, জাঙ্গীর আলম ও কাঞ্চন সরকার। তারা তিনজনই উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাড়িয়াছনি এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন যাবৎ তারা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু তার নির্বাচনি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কয়েকদিনে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং বেশ কয়েকজন মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
এছাড়া স্থানীয়রাও সামাজিকভাবে মাদক কারবারিদের ঠেকাতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। এতে মাদক কারবারে ভয়ংকর পরিণতি পরিলক্ষিত হলে তারা ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি রাশেদুল আলম বাবুর মাধ্যমে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। এবং মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে আর মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত না থাকার অঙ্গীকার করেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, পুলিশ উপজেলাকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করছে। এদিকে বিভিন্ন এলাকার সামাজিকভাবেও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে।
এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ওই তিনজন মাদক কারবারি স্বেচ্ছায় থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন এবং মুচলেকা দেওয়ার মাধ্যমে মাদক ব্যাবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তারা আবার মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়লে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রত্যেককে একটি করে জায়নামাজ ও টুপি উপহার দিয়ে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নাজমুল হুদা/কেএইচকে/এএসএম