দেশজুড়ে

ভিজিএফের চাল বিতরণ বন্ধ, খালি হাতে ফিরলেন হতদরিদ্ররা

পাবনার ঈশ্বরদীতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায় হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ড নিয়ে বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্বে বন্ধ হয়ে গেছে চাল বিতরণ কার্যক্রম। এতে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছে হতদরিদ্র মানুষ।

রোববার (১৫ মার্চ) উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সলিমপুর ইউনিয়নের জন্য দুই হাজার ৮৬৩টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রথমে এসব কার্ড বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেওয়ার কথা ছিল। জামায়াতের পক্ষ থেকে কার্ডের চাহিদা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মহির মন্ডল জামায়াতের চাহিদা অনুযায়ী জিজিএফ কার্ড দিতে পারেননি।

রোববার সকালে চাল বিতরণের সময় দুপক্ষের মধ্যে এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে সেনাবাহিনী ও ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এতে চাল বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

এসময় চাল না পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সুবিধাভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সলিমপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রাম থেকে আসা রিতা খাতুন বলেন, ‌‘ভিজিএফের চাল নেওয়ার জন্য সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে শুনলাম গন্ডগোলের কারণে আজ চাল দেওয়া হবে না। আবার অন্যদিন আসতে হবে। চাল নিতে এসে আজ একবেলা এখানে কাটালাম। আবার আরেক দিন আসতে হবে। আমাদের হয়রানি করা হলো।’

মানিকনগর গ্রামের সুফিয়া খাতুন বলেন, ‘দুই পক্ষের গন্ডগোলের কারণে আমরা চাল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। চাল পেলে আমাদের খুব উপকার হতো। চাল কবে পাবো নাকি পাবো না, তা বুঝতে পারছি না।’ এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আইন বিষয়ক সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘পরিষদে মোট দুই হাজার ৮৬৩টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা মাত্র ৫০০টি কার্ডের তালিকা চেয়ারম্যানকে দিয়েছিলাম। কিন্তু চেয়ারম্যান সেই তালিকা বাদ দিয়ে নিজের ইচ্ছামতো দলীয় কর্মীদের মধ্যে তা ভাগাভাগি করে দিয়েছেন। এতে প্রকৃত দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহির মন্ডল জানান, সরকারি বরাদ্দকৃত কার্ড ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে নিজ নিজ ওয়ার্ডের হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু বুধবার সকালে চাল বিতরণের সময় জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমান মন্ডলের নেতৃত্বে জামায়াত সমর্থকরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরিষদ চত্বরে মহড়া দিয়ে চাল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে পরে চাল বিতরণ করা হবে।

শেখ মহসীন/এসআর/এমএস