ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার সময় অনেকেরই একটু লম্বা সময়ের প্যাকিং করতে হয়। কিন্তু খেয়াল করে দেখেছেন কি যে, ফিরে আসার পর দেখা যায় ব্যাগের অনেক জামার ভাঁজই খোলা হয়নি? অথচ ব্যাগ গুছানোর সময় সবকিছুই জরুরি ভেবেই নিয়েছিলেন।
মনে হতে পারে, একটু বেশি কাপড় নিয়ে গেলে কী আর এমন সমস্যা? কিন্তু পরিবারের সবাই যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বেশি প্যাকিং করেন, তাহলে যাত্রাটা আরও কঠিন হয়ে যায়। তাই জেনে রাখা দরকার স্মার্ট প্যাকিংয়ের টেকনিকগুলো -
১. কয়দিন থাকবেন, সেই অনুযায়ী আউটফিট ঠিক করুনপ্যাকিংয়ের আগে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সফরের দিন সংখ্যা হিসাব করা। সাধারণভাবে -৩ থেকে ৪ দিনের সফর: ২-৩টি দৈনন্দিন পোশাক, ১টি বাড়তি পোশাক৫ থেকে ৭ দিনের সফর: ৩-৪টি আউটফিট, ১-২টি বাড়তি১০ দিনের সফর: ৫-৬টি আউটফিট যথেষ্ট
অনেক সময় একই পোশাক ভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়। তাই প্রতিদিনের জন্য আলাদা পোশাক নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
প্যাকিংয়ের সময় এমন পোশাক বেছে নিন, যেগুলো একে অন্যের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যায়। যেমন - একটি প্যান্টের সঙ্গে দুই-তিনটি ফতুয়া বা শার্ট ব্যবহার করা যায়। এতে কম কাপড় নিয়েও একাধিক আউটফিট তৈরি করা সম্ভব।
৩. কাপড় ভাঁজ না করে রোল করে রাখুনভাঁজ করে রাখার বদলে কাপড় রোল করে রাখলে ব্যাগে জায়গা কম লাগে এবং কাপড় কুঁচকে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে।
৪. জরুরি জিনিস আলাদা ব্যাগে রাখুনমোবাইল চার্জার, ওষুধ, টিকিট, পরিচয়পত্র বা ছোট টয়লেট্রিজ আলাদা ছোট ব্যাগে রাখুন। এতে মূল ব্যাগে বারবার খোঁজাখুঁজি করতে হবে না।
৫. অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিনঅনেক সময় ‘হয়তো লাগতে পারে’ ভেবে আমরা অনেক কিছু ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলি। প্যাকিংয়ের সময় নিজেকে প্রশ্ন করুন - এই জিনিসটি সত্যিই কি প্রয়োজন? না হলে সেটি বাদ দিন।
ব্যাগ গোছানোর সময় জুতা বা ভারী জিনিস নিচের দিকে রাখুন এবং হালকা পোশাক ওপরের দিকে রাখুন। এতে ব্যাগ বহন করা সহজ হয়।
৭. ছোট বোতলে টয়লেট্রিজ নিনবড় বোতল বহন না করে ছোট ট্রাভেল সাইজ বোতলে প্রয়োজনীয় শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ বা লোশন নিলে ব্যাগের ওজন কমে।
স্মার্ট প্যাকিং মানে কম জিনিস নেওয়া নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক জিনিস নির্বাচন করা। একটু পরিকল্পনা করে ব্যাগ গোছালে যাত্রা হবে আরামদায়ক, আর ফিরে এসে অব্যবহৃত কাপড়ের স্তূপও দেখতে হবে না।
সূত্র: ট্রাভেল + লেজার, রিয়েল সিম্পল, কনডে ন্যাস্ট ট্রাভেলার
এএমপি/এমএস