আলোকদূষণ বা লাইট পলিউশন বললে অনেকেই শহরের রাস্তার উজ্জ্বল আলো বা বড় বড় বিলবোর্ডের কথা ভাবেন। কিন্তু বাস্তবে ঘর কিংবা অফিসের ভেতরেও আলোকদূষণ তৈরি হতে পারে।
অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো শুধু চোখের ওপর চাপই তৈরি করে না, বরং মনোযোগ কমিয়ে দেওয়া, মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও ঘুমের সমস্যার মতো নানা জটিলতার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলো যত বেশি হবে তত ভালো - এ ধারণা সব সময় ঠিক নয়। আলো ব্যবহারের ধরন, অবস্থান ও পরিমাণ ঠিক না হলে সেটিই আলোকদূষণে পরিণত হয়। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন কোন কারণে ঘরে আলোকদূষণ হতে পারে -
১. অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো ব্যবহারঅনেক অফিস বা বাসায় খুব বেশি উজ্জ্বল এলইডি বাতি ব্যবহার করা হয়। এতে ঘর খুব আলোকিত মনে হলেও দীর্ঘ সময় সেই আলোতে থাকলে চোখের ওপর চাপ পড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলোতে দীর্ঘ সময় কাজ করলে চোখে জ্বালা, মাথাব্যথা এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মতে, আলো যদি পরিবেশের তুলনায় খুব বেশি তীব্র হয়, তাহলে তা মস্তিষ্কে অস্বস্তি ও মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।
২. আলোর ভুল অবস্থানঅনেক সময় আলো সরাসরি চোখের দিকে পড়ে বা কম্পিউটার স্ক্রিনে প্রতিফলন তৈরি করে। বিশেষ করে অফিসে ডেস্কের ঠিক ওপরে তীব্র আলো থাকলে স্ক্রিনে ঝলকানি তৈরি হয়।
এতে দীর্ঘ সময় কাজ করলে চোখ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায় এবং মাথা ব্যথার ঝুঁকি বাড়ে।
কেউ কেউ অল্প জায়গায় অনেকগুলো লাইট লাগান। এতে আলো ছড়িয়ে না পড়ে বরং অতিরিক্ত তীব্র হয়ে ওঠে।
এ ধরনের আলো কর্মক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় থাকলে মানসিক ক্লান্তি বাড়াতে পারে।
৪. লাইটের ভুল বিন্যাসঅফিস বা ঘরে লাইট লাইনের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। যদি আলোগুলো এলোমেলোভাবে বসানো হয় বা কাজের জায়গার সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকে, তাহলে কোথাও অতিরিক্ত আলো আবার কোথাও কম আলো তৈরি হয়।
এই অসম আলো চোখের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে এবং কাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে।
৫. ডিজিটাল স্ক্রিন ও কৃত্রিম আলোকম্পিউটার, মোবাইল ও টিভির আলোও অনেক সময় ঘরের আলোকদূষণ বাড়ায়। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা হতে পারে।
কেন বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া দরকার?বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কর্মক্ষেত্রে সঠিক আলো না থাকলে কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন জানায়, অতিরিক্ত কৃত্রিম আলো শুধু ঘুমের চক্রই বিঘ্নিত করে না, বরং দীর্ঘ সময় থাকলে মানসিক ক্লান্তিও বাড়াতে পারে।
কীভাবে লাইট পলিউশন কমানো যায়?>> ঘর বা অফিসে প্রয়োজন অনুযায়ী আলো ব্যবহার করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি উজ্জ্বল বাতি ব্যবহার না করে মাঝারি তীব্রতার আলো ব্যবহার করা ভালো।
>> ডেস্ক বা কাজের জায়গায় আলো এমনভাবে বসানো উচিত যাতে তা সরাসরি চোখে না পড়ে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ রাখা এবং স্ক্রিন ব্যবহারের সময় মাঝেমধ্যে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন।
সঠিকভাবে আলো ব্যবহার করলে শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ই নয়, চোখ ও মস্তিষ্কও আরাম পায়। তাই বাসা বা কর্মক্ষেত্রে আলো ব্যবস্থার দিকেও সচেতন হওয়া জরুরি।
সূত্র: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন, ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন ইলুমিনেশন
এএমপি/এএসএম