২০২০ সালে সর্বশেষ টেস্ট, ২০২১ সালে মার্চ ও এপ্রিলে সর্বশেষ ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন রুবেল হোসেন। এরপর ৫ বছর পর এসে অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পেসার তিনি।
২০১৫ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ছিলেন এই ডানহাতি পেসার। এছাড়া ২০১০ সালে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও সিরিজে জয়ে রেখেছিলেন অগ্রণী ভূমিকা। বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রুবেল অবসরের ঘোষণা দেন।
সেই স্ট্যাটাসে রুবেল লিখেছেন, ‘আমি পেসার রুবেল হোসেন। বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছি ২৭ টেস্ট, ১০৪ ওয়ানডে এবং ২৮টি টি-টোয়েন্টি। জাতীয় দল আমার আবেগ; কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম।’
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চান বলে জানিয়েছেন এই ডানহাতি পেসার। তিনি বলেন, ‘ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।’
এ সময় পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন রুবেল। তিনি লেখেন, ‘আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন—এটাই আমার বিশ্বাস। অনেক ভালোবাসা সবার প্রতি।’
জাতীয় দলের হয়ে ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের হয়ে ২৭টি টেস্ট, ১০৪টি ওয়ানডে ও ২৮টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে এই পেসারের শিকার ১৯৩ উইকেট। এরমধ্যে টেস্ট ও ওয়ানডেতে একবার করে ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি।
৩৬ বছর বয়সী এই বোলার ২০২১ সালের ১ এপ্রিল অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শেষবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন। ২০১৩ সালে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্বও আছে রুবেলের। ওই ম্যাচে ২৬ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি, যা মাশরাফি বিন মর্তুজার সাথে যৌথভাবে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগার।
তবে তার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে, ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৯তম ওভারে স্টুয়ার্ট ব্রড ও জেমস অ্যান্ডারসনকে একই ওভারে ১ম ও ৩য় বলে বোল্ড করে বাংলাদেশকে জয় এনে দেওয়ার ঘটনা।
এসকেডি/আইএইচএস/