বেগুনি রঙের বিটরুটকে পুষ্টিবিদরা প্রায়ই ‘জাদুকরী খাবার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। স্বাস্থ্যের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিটরুট নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস থাকলে শরীরের সুস্থতা বজায় রাখা সহজ হয়। তবে প্রশ্ন আসে, খালি পেটে বিটরুটের রস বা শরবত খাওয়া কি নিরাপদ ও কার্যকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিটরুটে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য উপকারী উপাদান। খালি পেটে এ রস পান করলে এর পুষ্টিগুণ দ্বিগুণভাবে কাজে আসে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রাচীন গ্রিক ও রোমানরা নানা রোগের প্রতিকার হিসেবে নিয়মিত বিটরুট খেতেন। কারণ বিটে প্রচুর ফোলেট, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ভিটামিন সি আছে।
বিটরুট আপনি চাইলে সালাদ হিসেবে খেতে পারেন, অথবা জুস বা শরবতের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারেন। পুষ্টিবিদদের মতে, বিটরুটের জুসে রয়েছে পটাশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন বি-৬ এর প্রাচুর্য। আমেরিকান স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের তথ্য বলা হয়েছে, বিটরুট খাওয়ার কিছু বিশেষ উপকারিতা হলো-
বিটরুটের রস রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। কোষ্ঠ্যকাঠিন্য বা হাড়ে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে এটি উপকারী। ভিটামিন এ ও ক্যারোটিন থাকার কারণে চোখ ও রেটিনার সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। বিটে থাকা বিটেইন ও ট্রিপটোফান উপাদান মেজাজ উন্নত করতে সাহায্য করে। ডিপ্রেশন বা দুশ্চিন্তার ক্ষেত্রে এটি উপকারী। আয়রনের উপস্থিতি হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে, অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে কার্যকর। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে লিভার, হার্ট ও পেশীর সুস্থতা নিশ্চিত করে। নিয়মিত খেলে কোষকে ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষা করে। শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ানোর কারণে দীর্ঘ সময় কাজ করার শক্তি বৃদ্ধি পায়। ফোলেট মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে এবং স্ট্রেস কমায়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বিট খাওয়া শরীরে ক্যানসার প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই রস ত্বককে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখে। সতর্কতাযাদের নিম্ন রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, গলব্লাডারে পাথর বা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য বিটরুটের শরবত খাওয়া উপযুক্ত নয়।
ডায়েটে নিয়মিত বিটরুটের রস বা শরবত রাখলে শরীর ও মনের জন্য অসাধারণ উপকার পাওয়া সম্ভব। তবে ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার দিকে লক্ষ্য রেখে গ্রহণ করা উচিত।
তথ্যসূত্র: অ্যাপোলো হসপিটালের ওয়েবসাইট
জেএস/