নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইট থেকে প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন। সংস্থাটি বলছে, এতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আর্টিকেল নাইনটিন।
নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করতে সাংবাদিকদের কার্ড দিয়ে থাকে ইসি। এর আগে এ কার্ড ম্যানুয়াল আবেদনপত্রের মাধ্যমে দেওয়া হতো, কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো অনলাইনে কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করে ইসি। পরে সাংবাদিকদের আপত্তির মুখে আবার ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ফিরে যায় সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি।
তবে এরই মধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে কার্ডের জন্য আবেদন করা ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। ওই সাইটে প্রবেশ করলে যে কেউ আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে পারতেন। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে ছিল সাংবাদিকদের ছবি, সই, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, অফিস আইডি কার্ড এবং গণমাধ্যম সংক্রান্ত নথি।
আর্টিকেল নাইনটিন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। কীভাবে এ তথ্য ফাঁস হলো ও কোনো তথ্য অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে দায়ী কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি বলছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে শক্তিশালী ডেটা সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে।
আর্টিকেল নাইনটিন বলছে, ‘এটি সাংবাদিকদের গোপনীয়তার গুরুতর লঙ্ঘন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের জন্য পরিবেশ এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় হয়রানি, নজরদারি এবং শারীরিক হামলার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।’
আন্তর্জাতিক এ মানবাধিকার সংস্থা এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের অবহেলাকে দায়ী করেছে। তাদের মতে, যথাযথ নিরাপত্তা পরীক্ষা ছাড়াই এমন গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ডেটা ফাঁসের ঘটনায় ডিজিটাল শাসনব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
ইএইচটি/এমএএইচ/