রোজার মাঝামাঝি থেকেই ঈদের কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। কিন্তু রোজা রেখে দীর্ঘ সময় বাজারে হাঁটা, ভিড় সামলানো, গরমে ঘোরাফেরা - এসব মিলিয়ে শরীরে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এমনকি পানিশূন্যতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। পরিকল্পনা না থাকলে ঈদের আনন্দই হয়ে উঠতে পারে শারীরিক অস্বস্তির কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় গরম পরিবেশে থাকলে শরীর দ্রুত পানি ও শক্তি হারায়। আবার সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন সতর্ক করেছে - ডিহাইড্রেশন হলে দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই রোজা রেখে শপিংয়ে গেলে কিছু কৌশল মেনে চলা জরুরি। জেনে নিন -
১. সময় বেছে নিন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গেদুপুরের তীব্র গরম এড়িয়ে বিকেল বা ইফতারের পর শপিংয়ে গেলে শরীরের ওপর চাপ কম পড়ে। রোদ ও তাপমাত্রা কম থাকলে পানিশূন্যতার ঝুঁকিও কমে। সম্ভব হলে এয়ার-কন্ডিশনড মার্কেট বা শপিংমল বেছে নিন।
২. ইফতার ও সেহরিতে পানি ও পুষ্টিতে জোর দিনদিনে পানি পান সম্ভব না হলেও সেহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ জরুরি। ডাবের পানি, লেবু-পানি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার শরীরের পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার শরীরকে আরও ক্লান্ত করতে পারে।
হুট করে বের হলে অপ্রয়োজনীয় ঘোরাঘুরি বাড়ে। আগে থেকে তালিকা বানালে সময় বাঁচে, অযথা হাঁটাহাঁটি কম হয়। এতে শক্তিও কম খরচ হয় এবং সিদ্ধান্ত নিতে মানসিক চাপও কমে।
৪. আরামদায়ক পোশাক ও জুতা পরুনহালকা, ঢিলেঢালা পোশাক এবং নরম সোলের জুতা পরলে শরীর কম ক্লান্ত হয়। গরমে গাঢ় রঙের বদলে হালকা রঙের পোশাক তাপ শোষণ কম করে। ছোট একটি হাতপাখা বা ভেজা টিস্যু সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিনমাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বল লাগা, চোখে ঝাপসা দেখা - এসব উপসর্গকে অবহেলা করবেন না। প্রয়োজনে কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নিন। মনে রাখবেন, ঈদের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সুস্থ থাকা তার চেয়েও বেশি জরুরি।
রোজার সময় শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন ছন্দে চলে। তাই ঈদের কেনাকাটার উচ্ছ্বাসের মাঝেও নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতার দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। পরিকল্পিত শপিং শুধু সময়ই বাঁচায় না, ক্লান্তি থেকেও রক্ষা করে।
সূত্র: ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন
এএমপি/এমএস