প্রবাস

নর্থ সাইপ্রাসে চুরির অভিযোগ এনে ৬ বাংলাদেশিকে জেলে দিলেন মালিক

তুর্কি অধ্যুষিত দেশ নর্থ সাইপ্রাসে চুরির অভিযোগ এনে ছয় বাংলাদেশিকে জেলে দিয়েছেন হাংগ্রি হাউজ নামক এক রেস্টুরেন্টের মালিক। রেস্টুরেন্টটি নর্থ সাইপ্রাসের গিরনাতে অবস্থিত এবং এটার মালিক স্থানীয় তুর্কিশ।

জানা যায়, গত ১ মার্চ ছয় বাংলাদেশির বিরুদ্ধে রেস্টুরেন্ট থেকে টাকা চুরির অভিযোগ এনে তাদের জেলে দেওয়া হয়। তারা ওই রেস্টুরেন্টে দুই বছর ধরে কাজ করেন। অভিযুক্তরা হলেন- শাহাদাৎ হোসেন, রাজু আহমেদ, আরিফুর রহমান, মো. শাউন মিয়া ও শাউন হোসেন, শিহাবুর রহমান। তাদের শুক্রবার (৬ মার্চ) আদালতে তোলা হবে।

এ বিষয়ে নর্থ সাইপ্রাস বাংলাদেশ কমিউনিটির সভাপতি ও ব্যবসায়ী ইমাম হোসেন জানান, প্রায় দুই বছর আগে হাংগ্রি রেস্টুরেন্টে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় আসেন একসঙ্গে ২২ জন বাংলাদেশি। আসার পর থেকে তারা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন। মালিকপক্ষের শুরুতেই বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের ঠিকমতো বেতন দেয়নি, তারা বেতনের জন্য মালিককে চাপ সৃষ্টি করলে মালিকপক্ষ তাদের গায়ে হাত তোলে। পরে পুলিশকে অভিযোগ করলে পুলিশ এসে মালিককে ধরে নিয়ে যায়। পাঁচদিন জেল খেটে মালিক ছাড়া পাওয়ার পর তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে রেস্টুরেন্ট থেকে পাঁচ মাস আগে টাকা চুরি হওয়ার ঘটনায় তাদের ফাঁসিয়ে দেয়।

ইমাম হোসেন আরও জানান, তারা অন্যত্র কাজ করার জন্য অনুমতি চাইলে হাংগ্রি রেস্টুরেন্টের মালিক তাদের কাজ করার অনুমতি না দিয়ে তাদের পাসপোর্ট জব্দ করে রেখে দেন। ভুক্তভোগীরা যার মাধ্যমে এসছেন সেই দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দালাল মালিকের পক্ষে নেন।

রেস্টুরেন্টে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাংলাদেশি জানান, প্রথম মাস থেকে বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের সাত মাস কোনো বেতন দেওয়া হয়নি, এভাবে দুই বছর ধরে তারা সেখানে কাজ করে আসছেন। প্রতিটি কর্মচারীর ছয় মাসের ওপর বেতন বকেয়া। দালালের সঙ্গে মাসে ৪০ হাজার লিরা বেতনের চুক্তি থাকলেও আসার পর তাদের বেতন ধরা হয়েছে ২০ হাজার লিরা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৫ হাজার টাকার মতো।

তিনি জানান, ওই রেস্টুরেন্টে ছয় মাস আগে একটি চুরির ঘটনা ঘটে, চুরি করে রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার পালিয়ে যান। কিন্তু ছয় মাস পরে সেই অভিযোগ বাংলাদেশি কর্মচারীদের ওপর চাপিয়ে দেয়। নর্থ সাইপ্রাসের প্রতিটি রেস্টুরেন্ট এরকম করে বলে জানান তিনি। প্রতিটি রেস্টুরেন্টের কর্মচারীদের ছয় মাসের বেশি বেতন বকেয়া। আর টাকা চাইতে গেলে এভাবে নানান মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদের পুলিশি হয়রানি করে।

তিনি আরও জানান, নর্থ সাইপ্রাসে শক্তিশালী কোনো বাঙালি কমিউনিটি ও বাংলাদেশি দূতাবাস না থাকায় এসব ব্যাপারে সমাধানের জন্য কাউকে বলাও যায় না। কারও কাছে কোনো সহায়তা পাওয়া যায় না বলে তুর্কিশ মালিক ও দালালচক্র মিলে তাদের ইচ্ছামতো কাজ করতে পারেন। তাই নতুন যারা নর্থ সাইপ্রাস আসতে ইচ্ছুক তাদের অবশ্যই এসব জেনে-বুঝে আসার পরামর্শ দিয়েছে নর্থ সাইপ্রাস প্রবাসীরা।

মাহাফুজুল হক চৌধুরী/ইএ