বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহ পদত্যাগ করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) তিনি নতুন গভর্নরের কাছে তার পদত্যাগপত্র পাঠান। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বের হওয়ার সময় মবের মুখে পড়ার ঘটনার পর থেকেই তিনি অফিসে যাননি।
ওইদিন সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় আহসান উল্লাহর ওপর কিছু কর্মকর্তা চড়াও হন এবং তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গভর্নরের কাছে দেওয়া চিঠিতে আহসান উল্লাহ উল্লেখ করেছেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকে সৃষ্ট মব পরিস্থিতির পর বিকেলে তিনি দাপ্তরিক গাড়িতে করে মিরপুর ডিওএইচএসে নিজ বাসভবনে চলে যান। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর গভর্নরের উপদেষ্টার মতো সম্মানজনক পদে দায়িত্ব পালন করা তার জন্য আর স্বাচ্ছন্দ্যকর নয় বলেও তিনি জানান। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ দিন পর তার পদত্যাগ কার্যকর হবে।
চিঠিতে তিনি আরও জানান, প্রায় এক বছর এক মাস ১৮ দিন দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা ও সম্মানের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
আহসান উল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত কর্মকর্তা ছিলেন। অবসরের পর তিনি একাধিকবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ আহসান এইচ মনসুর গভর্নর হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তাকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি পদোন্নতিতে পরীক্ষাপদ্ধতি চালু, বিভিন্ন পদে জনবল কমানো এবং বার্ষিক কর্মমূল্যায়ন পদ্ধতির আধুনিকায়নসহ বেশকিছু সংস্কার উদ্যোগ নেন। এতে পদোন্নতির গতি কমে যাওয়ায় অনেক কর্মকর্তা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এদিকে একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেন অর্থনীতিবিদ সাদিক আহমেদ। তিনি পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিশ্বব্যাংকের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গভর্নর পরিবর্তনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি অবনতির মধ্যে আহসান এইচ মনসুর ব্যাংক ত্যাগ করেন। পরে সরকার মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়।
ইএআর/ইএ