ক্যাম্পাস

পহেলা বৈশাখে বহিরাগতদের দখলে ক্যাম্পাস, নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীরা

পহেলা বৈশাখের উৎসবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ও উপচে পড়া ভিড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক বহিরাগত ও স্টিকারবিহীন যানবাহনের চাপে ক্যাম্পাস অনেকটা ‘জনাকীর্ণ পার্কে’ পরিণত হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নববর্ষ উদযাপনে আসা বহিরাগতদের অনেকেই ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়েন। অভিযোগ উঠেছে, কিছু বহিরাগত যুবক অনুমতি ছাড়াই ছাত্রীদের ছবি তুলছেন, এমনকি জুম করে আপত্তিকরভাবে ছবি ধারণের মতো ঘটনাও ঘটেছে। কয়েকটি গেট বন্ধ থাকলেও অনেককে দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে শিক্ষার্থীদের চলাফেরাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলেছেন, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের প্রস্তুতির ঘাটতি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ফলে সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতেও ব্যর্থ হচ্ছে জাবি প্রশাসন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এক শিক্ষার্থী বলেন, জাবি ক্যাম্পাস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হলেও বন্ধের দিনে এটা সাভারের মানুষের জন্য জাতীয় পার্ক। বিপুল সংখ্যক বহিরাগতদের অবাধ বিচরণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা চলাচলে নিরাপদ মনে করে না। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসন নিশ্চুপ।

যদি ও প্রশাসন থেকে গত ১২ তারিখ অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা কমিটির সভায় বহিরাগত ও জাবির স্টিকার বিহীন যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

প্রশাসনিক আদেশকে পরিকল্পনা ছাড়া নেওয়া পদক্ষেপ বলে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, প্রশাসন কয়দিন পর পর শুধু ঘোষণা দেয় বহিরাগত প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু কোনো পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ নেয় না।শুক্রবার সহ অন্যান্য বন্ধের দিন ক্যাম্পাস পুরোপুরি বহিরাগতদের দখলে থাকে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরাই ঠিক করে চলাচল করতে পারি না। যেন তাদের এলাকা আমরা চলাচল করি।

জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং স্টিকারবিহীন গাড়ি ক্যাম্পাসে ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। তবে বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। তার মতে, প্রশাসনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং এতে কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

এ বিষয়ে প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের নির্দেশ দিয়েছে বহিরাগতদের প্রবেশ করতে না দিতে। কিন্তু অনেকেই সাবেক আর শিক্ষার্থীদের পরিচিতি দিয়ে প্রবেশ করে।এক্ষেত্রে বলেও বাধা দেওয়া যায় না। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কঠোর ভূমিকা পালন করা হয়। কোথাও সন্দেহজনক কিছু মনে হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

মো. রকিব হাসান প্রান্ত/কেএইচকে