খেলাধুলা

লিভারপুলকে হারিয়ে বিরল ইতিহাস গড়ার পথে পিএসজি!

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্সন লিগের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও একধাপ এগিয়ে গেল পিএসজি। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা এবার সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলকে দুই লেগ মিলে ৪-০ গোলের ব্যবধানে ছিটকে দিয়ে।

মঙ্গলবার অ্যানফিল্ডে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ২-০ ব্যবধানে জয় পায় পিএসজি। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফরাসি ক্লাবটি। এর ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো লিভারপুলকে বিদায় করে সেমিফাইনালে উঠল তারা।

ম্যাচ শেষে পিএসজির কোচ লুইন এনরিকে বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা ধরে রাখা কঠিন- আমরা সেটা জানি। কিন্তু আমরা আবার এখানে এসেছি এবং এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।’

ম্যাচের নায়ক ছিলেন ব্যালন ডি’অর জয়ী ওসমান ডেম্বেলে। দ্বিতীয়ার্ধে তার জোড়া গোলে লিভারপুলের প্রত্যাবর্তনের সব আশা শেষ হয়ে যায়। ৭২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে প্রথম গোল করেন তিনি, যা জালের নিচের কোণে জড়িয়ে যায়। এরপর যোগ করা সময়ে দারুণ এক আক্রমণের শেষ প্রান্তে কাছ থেকে দ্বিতীয় গোলটি করেন ডেম্বেলে।

এই জয়ের মাধ্যমে নকআউট পর্বে টানা ৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকল পিএসজি। পাশাপাশি ইতিহাস গড়ে টানা তিন মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে ওঠা প্রথম ফরাসি ক্লাব হলো তারা। এখন সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বায়ার্ন মিউনিখ বা রিয়াল মাদ্রিদ।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আধুনিক যুগে (১৯৯২ সালের পর) টানা দুটি শিরোপা জেতা অত্যন্ত কঠিন কাজ। সর্বশেষ এই কীর্তি গড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। যারা ২০১৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা তিনবার শিরোপা জিতেছিল। এবার সেই বিরল কীর্তির পথে হাঁটছে পিএসজি, যারা গত মৌসুমে প্রথমবার ইউরোপ সেরার মুকুট পরেছিল।

লুইস এনরিক বলেন, ‘আমার জন্য এটা দারুণ আনন্দের বিষয় যে আমার দল এমন উচ্চতায় খেলতে পারে, প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন। আমাদের দলে দারুণ সব খেলোয়াড় আছে, আত্মবিশ্বাস আছে। এই অভিজ্ঞতা উপভোগ করছি।’

ম্যাচের পর ডেম্বেলে বলেন, ‘এই ম্যাচ জিততে পেরে আমরা খুব খুশি, কারণ এটা খুব কঠিন ছিল, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে; কিন্তু আমরা জয়ের পথ খুঁজে পেয়েছি। আমরা এখন সেমিফাইনালে- এটা দারুণ অনুভূতি।’

প্রথম লেগে সহজ সুযোগ নষ্ট করার জন্য সমালোচনায় ছিলেন ডেম্বেলে। এই ম্যাচেও প্রথমার্ধে দুটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে জয় এনে দেন এই ফরোয়ার্ড।

অন্যদিকে লিভারপুলও সুযোগ তৈরি করেছিল। ম্যাচের শুরুতেই ইনজুরিতে হারায় হুগো একিতিকেকে। প্রথমার্ধে সহজ একটি সুযোগ থেকে গোল করতে পারেননি ভিরগিল ফন ডাইক, কারণ শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত ব্লক দেন মার্কুইনহোস।

এই ডিফেন্সিভ মুহূর্ত নিয়ে মারর্কুইনহোস বলেন, ‘একজন ডিফেন্ডারের জন্য এমন মুহূর্ত গোল করার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। আমি দেখেছিলাম ফন ডাইক আসছে, তাই নিজেকে ছুঁড়ে দিয়েছিলাম। এই ছোট ছোট মুহূর্তই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।’

দ্বিতীয়ার্ধে লিভারপুল সমর্থকদের মধ্যে আশা জাগে যখন রেফারি মওরিজিও মারিয়ানি পেনাল্টির বাঁশি বাজান, অ্যালেক্সি ম্যাক অ্যালিস্টারকে উইলিয়াম পাকো ফাউল করার কারণে। কিন্তু ভিডিও রিভিউয়ের পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হলে হতাশায় ভেঙে পড়ে স্বাগতিকরা।

পুরো ম্যাচে অ্যানফিল্ডের ঐতিহ্যবাহী আবহও তেমন কাজে আসেনি। বরং সফরকারী পিএসজি সমর্থকরাই গ্যালারিতে জোরালো উপস্থিতি দেখান।

সব মিলিয়ে শক্তিশালী পারফরম্যান্সে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে পিএসজি এখন ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে বিভোর- টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

আইএইচএস/